বরকলের ছোট হরিণা বাজারে সমস্যার শেষ নেই, প্রশাসন নির্বিকার

পুলিন চাকমা,বরকল,হিলিবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

horina bazar pic-03
রাঙামাটির বরকল উপজেলার সীমান্তবর্তী ছোট হরিণা বাজার নানা সমস্যায় জর্জরিত। দেখার কেউই নেই।

জানা গেছে,বরকল উপজেলার ভূষণছড়া ইউনিয়নের সীমান্তের ছোট হরিণার বাণিজ্যিক বাজারটি ব্রীটিশ আামলে প্রতিষ্ঠিত। উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূষণছড়া,বড়হরিণা ও আইমাছড়া এ তিন ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বাজার এটি। প্রতি সপ্তাহের বৃহষ্পতিবারে ছোট হরিণা বাজারে হাট বসে। উপজেলা জেলা ও চট্টগ্রাম সহ ঢাকার ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ধরনের মালামাল বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। আর ফেরার সময় ছোটহরিণা বাজার থেকে গাছ বাঁশ কলা আদা হলুদ ও তিল সহ স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত মালামাল নিয়ে যান। বাজারটির অবস্থান সীমান্তের পাশে হওয়ার সুবাধে প্রতি সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার ব্যবসার লেনদেন হয়।

এ বাজারটির উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিন ইউনিয়নের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলায় সরকারী অনুমোদিত যেসব বাজার রয়েছে তার মধ্যে সর্বোচ্চ ছোটহরিণা বাজারটি বাজার ফান্ড থেকে প্রতিবছর ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকায় ইজারায় ডাক হয়। ইজারার মাধ্যমে এ বাজার থেকে প্রতিবছর ৬ থেকে ৭লক্ষ টাকা সরকার কর পায়। এছাড়াও এ বাজার থেকে টোল আদায় করে ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও দোকানের প্লট থেকে খাজনা আদায় করে বাজার ফান্ড। এতকিছুর পরেও সরকারী বেসরকারী কোন সুযোগ সুবিধা নেই এ বাণিজ্যিক বাজারে। দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড় সমান সমস্যা নিয়ে চলছে বাণিজ্যিক এ বাজারটি। সমস্যার মধ্যে অন্যতম অবৈধভাবে বাজারের জমি দখল,ভাঁঙাচেরা রাস্তাঘাট,বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব ও নেই গণশৌচাগার। এছাড়াও বাজারের হোটেল রেস্টুরেন্ট গুলোতে অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন সহ এসব নানা সমস্যায় র্জজরিত উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক বাজার ছোট হরিণা। সরেজমিনে ঘুরে এলাকার মানুষদের সাথে কথা বলে বর্তমানে বাজারের করুণ অবস্থা সম্পর্কে জানা গেছে।

জানাযায় ছোটহরিণা বাণিজ্যিক বাজারের জায়গা প্রতিনিয়ত অবৈধ ভাবে দখল হলেও স্থানীয় প্রসাশন ও বাজার ফান্ড কর্র্তৃপক্ষ রয়েছে নীরব দর্শক। অভিযোগ রয়েছে বাজারের জমি দখল করেছে স্থানীয় ও বহিরাগত কিছু ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী মানুষ। দখলবাজদের কারণে বাজারের জায়গার সীমানা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে বলে বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ সোলাইমান সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম মনির জানিয়েছেন।

এছাড়াও বাজারের হোটেল রেস্টুরেন্ট গুলোতে বিকিকিনি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর খাবার। বাজারে বিশুদ্ধ পানীয়জলের ব্যবস্থা না থাকায় নদীর পানি ব্যবহার হচ্ছে বাসা বাড়ি ও হোটেল গুলোতে। এছাড়াও নেই গণশৌচাগারের ব্যবস্থা। নেই এ বাণিজ্যিক বাজারের নিয়ন্ত্রণ। এসবের কারণে বাজারের সৌন্দর্য্য ও পরিবেশ ক্রমেই হারিয়ে গিয়ে যেন বাজার নয় ঘনবসতি একটি গ্রামে পরিণত হচ্ছে ছোট হরিণা বাজারটি।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly