প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভুমি কাপ্তাই বনশ্রী পর্যটন কমপ্লেক্স

নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

                             Banashree (FILEminimizer) (FILEminimizer)

পাহাড়ী চট্ট্রলায় কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলভিুমি কাপ্তাই। ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য কাপ্তাইকে দেশের অনন্যস্থানে পরিনত করেছে। পাহাড়, নদী, ঝর্ণা, অরণ্য এসব নৈসর্গিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে এ উপ-শহর পরিনত হয়েছে প্রকৃতির লীলা নিকেতনে। এমন অপরুপ সৌন্দর্য্যরে মাঝেই গড়ে তোলা হয়েছে বনশ্রী পর্যটন কমপ্লেক্স। বনশ্রী কমপ্লেক্সের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে লুসাই পাহাড় থেকে সৃষ্ট বিখ্যাত কর্ণফুলী নদী। সর্পিল গতিতে মৃদু ঢেউ তুলে কর্ণফুলী বয়ে চলেছে।

নদীর কাকচক্ষু শীতল জলে ঢেউ তুলে পাল উড়িয়ে চলছে ডিঙ্গি নৌকা, কলা, কাঁঠাল সহ নানা ফলমুল ও বিরাট বিরাট বাঁশের চালি। এর পাশে রয়েছে একটি বিশাল চা বাগান ও সুউচ্চ পাহাড়। বনশ্রী কমপ্লেক্সে বসে এ সকল দৃশ্য অনায়াসে অবলোকন করা যায়। এমন প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে যে কেউ বিমোহিত না হয়ে পারে না। বনশ্রী কমপ্লেক্স সকলের জন্য উন্মুক্ত। দেশের দুর দুরান্ত থেকে প্রতিনিয়ত এখানে পর্যটকরা ভিড় জমায়। বিশেষ করে শীত মৌসুম এলে পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড় লেগেই থাকে। এখানে  প্রেমিক-প্রেমিকা, নব দম্পতি, শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ, যুবক-যুবতি, কেউবা পরিবার পরিজন নিয়ে আবার অনেকেই দল বেঁেধ বনভোজনে আসেন। এখানে একসাথে হাজার লোকের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার, পানীয়, টয়লেট সহ ছোট পরিবারের বিশ্রাম ঘরের ব্যবস্থাও রয়েছে। এছাড়া স্পীড বোট, সাম্পানে নদীতে ভ্রমনের ব্যবস্থাও আছে।

যা দেখবেনঃ কাপ্তাই ভ্রমনে এলে পাহাড়ী জনপদ, আদিবাসীদের জুম চাষ, হ্যান্ডলুম, ভাষা সাহিত্য, কৃষ্টি ও আদিবাসীদের মাচাং ঘর সহ বিভিন্ন জিনিস দেখার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এশিয়ার বিখ্যাত কর্ণফুলী কাগজ কল, পিলার বিহীন দেশের একমাত্র কেপিএম জামে মসজিদ, কেআরসি টাওয়ার ক্লক, চা বাগান, জাতীয় উদ্যান, রাম পাহাড়, সীতা পাহাড়, চিৎমরম,বৌদ্ধ বিহার, কাপ্তাই হ্রদ সহ বিভিন্ন পর্যটন স্পট ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে।

কাপ্তাই যেভাবে আসতে হবে: বন্দর নগরী চট্টগ্রাম থেকে কাপ্তাইয়ের দুরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। চট্টগ্রাম বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে আধ ঘন্টা পর পর গেইট লক, বিরতিহীন বাস সার্ভিস রয়েছে। তবে নিজস্ব পরিবহন, অটোরিক্সা সিএনজি নিয়ে আসলে বিশেষ সুবিধা হয়।

বনশ্রী কমপ্লেক্সের পরিচালক প্রকৌশলী রুবায়েত আকতার আহাম্মদ ও মহিলা মেম্বার নুর বেগম মিতা জানান, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য জেলা পরিষদের অনুমক্রিমে একমাত্র এ কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়েছে। কাপ্তাই দেশের বিখ্যাত একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কর্ণফুলী কাগজ কল এ দুটি জাতীয় সম্পদ। এছাড়া কাপ্তাইয়ে খ্রীষ্টান মিশন হাসপাতাল, শহীদ মোয়াজ্জেম নৌ ঘাটি, প্রকৌশল একাডেমী সহ অনেক গুরুত্বপুর্ন স্থাপনা রয়েছে।  এক সময়ের মহকুমা কাপ্তাই থেকে তিন পার্বত্য জেলাকে শাসন করা হত। এত গুরুত্বপুর্ন এলাকা সত্বেও বিভিন্ন সরকারের বিমাতা সুলভ আচরনের কারনে কাপ্তাইয়ে পর্যটন শিল্পের প্রসারতা ঘটছে না। নিজস্ব উদ্যোগে কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলেও এখানে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ডিজিটাল ফোনের আওতায় আনাসহ সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত হলে পর্যটন শিল্পে আরো প্রসারতা লাভ করবে বলে তারা জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly