প্রভাবশালীর দখলে পানছড়ি বাজার গণশৌচাগারঃ ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ চরমে

নূতন ধন চাকমা, পানছড়ি,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

 Picture2

খাগড়াছড়ির পানছড়ি বাজারে একমাত্র গণশৌচাগার এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দখলে নিয়েছেন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দুর-দূরান্ত থেকে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

খাগড়াছড়ি বাজার ফান্ড সূত্রে জানা যায়, পানছড়ি বাজারে আসা সর্বসাধারনের সুবিধার্থে খাগড়াছড়ি জেলা বাজার ফান্ড থেকে ২০০৪-২০০৫ অর্থ বছরে দেড় লাখ টাকায় দুটি গণ শৌচাগার নির্মাণ  করে দেয়। অভিযোগ রয়েছে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরই জৈনক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গণশৌচাগার দু’টি দখল করে রেখেছেন। বর্তমানে বাজারে স্বাস্থ্য সম্মত কোন শৌচাগার না থাকায় প্রকৃতির ডাকে সম্ভ্রম নষ্ট করে অনেকেই খোলা জায়গায় পায়খানা-প্রস্রাব সেরে নিচ্ছেন। এতে এলাকা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গণশৌচাগার দু’পাশে রয়েছে মুরগির দোকান রয়েছে। চারদিকে দুর্গন্ধ আর মশামাছি। অনেকে নাকে রুমাল দিয়ে লোকজন হাটাচলা করছেন। গণশৌচাগারগুলো ব্যবহার না হওয়ায় মুরগি ব্যবসায়ীরা গণশৌচাগার পাশে মুরগি জবাই করছে।

পানছড়ি বাজার ব্যবসায়ী এবি ট্রেডার্স এর স্বত্বধিকারী সুকুমার দে জানান,ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে দখল করা হয়েছে গণশৌচাগারটি। কেউ এটিকে উদ্ধার করার জন্য এগিয়ে আসছে না। বাজার উন্নয়ন কমিটিকে এ ব্যপারে অনেকবার বলা হয়েছে।

ব্যবসায়ী কানু সিকদার বলেন-শৌচাগারটি দখল হওয়া বাজারে প্রতিদিন শতশত মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

পানছড়ি বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হেদায়েত আলী জানান,বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে পানছড়ি বাজারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী  গণশৌচাগার দু’টি দখল করে রেখেছে। বর্তমানে তিনি ওই জায়গার মালিক বলে দাবি করেন। তিনি গণশৌচাগার দু’টির সিপটি টাংকিগুলোও ভরাত করে রেখেছেন।

গণশৌচাগারের প্লপটির রেজিঃভূক্ত কাগজপত্র দেখিয়ে ব্যবসায়ী কাজীএনামুল হক  জানান, বাজার ফান্ডের বিধিমোতাবেক ১০ ফুট বাই ৩০ ফুট প্লটটি বাজার ফান্ড আমার নামে ২০০২ সালে নামে বরাদ্ধ দেয়। বিগত চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হেদায়েত আলী আমার রেজিঃভূক্ত প্লটের উপর ২০০৪-২০০৫ সালে  গণশৌচাগারটি নির্মাণ করে। সে সময় তাকে পানছড়িতে থাকতে দেয়া হয়নি। তার আত্মীয়-স্বজনদের এ ব্যাপারে কথা না বলার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ প্লটটি নিয়ে তিনি মামলাও করেছি। রায়ে তিনি প্লটটি বরাদ্দ পেয়েছি। তিনি  চান বিষয়টি সুরাহা হোক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজার ফান্ডের এক কর্মকর্তা জানান, প্লটটি এখনো খাস রয়েছে। কারো নামে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। জৈনক ব্যবসায়ী ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে দখলে রেখেছেন আর গণশৌচাগারগুলোতে পায়খানা প্রস্রব করলে সাধারণ জনগণকে তিনি নাকি হুমকিও দেন।

পানছড়ি বাজার চৌধুরী চাইলা প্রু বলেন, গণশৌচাগার জায়গাটি কারো নামে রেজিঃভূক্ত নয়। প্লটটি এখনো খাস রয়েছে এবং দখলে নেওয়ার হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি কোন জবাব দেননি।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly