খাগড়াছড়িতে দু’দিন ব্যাপী পিসিপি’র ২১তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন শুরু


 পূর্ণস্বায়ত্তশাসন ছাড়া কোন বিকল্প নেই

ডেস্ক রিপোর্ট, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

11

মঙ্গলবার থেকে দুদিন ব্যাপী খাগড়াছড়িতে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি) ২১তম কেন্দ্রীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকার পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ এদেশের সংখ্যালঘু জাতিসমূহর উপর উগ্র বাঙ্গালী জাতীয়তা চাপিয়ে দিয়েছে। ছলে-বলে, কৌশলে পাহাড়ীদের ভূমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ী মা-বোনদের সম্ভ্রম কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাই পূর্ণস্বায়ত্বশাসন ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।

পিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক বিনয়ন চাকমার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি সদরের নারাঙখিয়াস্থ সাংস্কৃতিক ইউস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে দু’দিন ব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি থুইক্যচিং মারমা। বক্তব্যে রাখেন ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট(ইউপিডিএফ)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অংগ্য মারমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাদ্রী চাকমা। এছাড়া ইউপিডিএফ-এর খাগড়াছড়ি জেলা সমন্বয়ক প্রদীপন খীসাও এতে উপস্থিত ছিলেন। পিসিপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক বিনয়ন চাকমা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সভা পরিচালনা করেন পিসিপির সাধারণ সম্পাদক বিলাস চাকমা।

সভা শুরুতে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন পিসিপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য অংকন চাকমা। শোক প্রস্তাব পাঠের পর শহীদদের সম্মানে ২ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি ও ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শাখা কমিটি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দুই শতাধিক প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্যে পর পিসিপি’র রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যেসব শহীদদের প্রতি বিশেষ সম্মান শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ তাদের পরিবারবর্গের প্রতিনিধিদের নিকট শহীদ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেয়া সম্ভব হয়নি তাদের ক্রেস্ট প্রদান এবং কারামুক্তদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। শহীদ সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহন করেন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি শহীদ রূপক চাকমার পিতা বিমলেন্দু চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের পানছড়ি উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি শহীদ সমীরণ চাকমার বড়ভাই কালাধন চাকমা, মহালছড়ি ছাত্র নেতা শহীদ নীতিষ চাকমার পিতা সুভাষ চাকমা, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ সাইদিঅং মারমা পিতা কংক্য মারমা ও মাতা আক্রাশে মারমা, কাউখালীর  সাবেক ছাত্র নেতা শহীদ প্রীতি বিকাশ চাকমার ছোট ভাই নিক্সন চাকমা এবং শহীদ রতœ সেন চাকমার ছোট বোন স্বপ্না চাকমা। আগামীকাল ১৬ জুলাই পর্যন্ত এ সম্মেলন চলবে। নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে দু’দিনের সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অংগ্য মারমা বলেন, এমন এক পরিস্থিতিতে পিসিপি’র এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন পার্বত্য চট্টগ্রামে ভুমি বেদখল, নারী ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা মাত্রা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সম্মেলনে শহীদ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার মাধ্যমে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের প্রতি যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি পিসিপি’র নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে  ’৮৯ এর চেতনায় আপোষহীন সংগ্রামী ধারায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নব্বইয়ের দশকে যেভাবে ছাত্র-গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল সেভাবেই আগামী দিনেও পার্বত্য চট্টগ্রামের সবত্র ছাত্র-গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের নিপীড়ন-নির্যাতন, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে প্রতিবাদ-প্রতিরোধে গর্জে উঠতে হবে

ইউপিডিএফ-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব চাকমা পূর্ণস্বায়ত্বশাসন ছাড়া কোন বিকল্প নেই উল্লেখ করে নিপীড়িত-নির্যাতিত জনগণের প্রকৃত বেঁচে থাকার প্রকৃত অধিকার পূর্ণস্বায়ত্বশাসন আদায়ের লক্ষ্যে লড়াই-সংগ্রাম বেগবান করার জন্য সম্মেলনে সমবেত পিসিপি নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly