পাহাড়ে কাউন চাষের সম্ভাবনা

দেশমনি তংচংগ্যা, আলীকদম,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Deshmoni_Cown News_Alikadamhillbd24.comবাণিজ্যিকভাবে কাউন চাষের উদ্যোগ নিলে বদলে যেতে পারে পাহাড়ের অর্থনীতি। কাউন চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও কৃষি বিভাগের উদ্যোগ নেই। কৃষিপণ্য হিসেবে পাহাড় ও সমতলের মানুষের কাছে কাউন সমাদৃত।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, প্রায় সবধরণের মাটিতেই কাউনের চাষ হয়। তবে পানি জমে না এমন বেলে দো-আঁশ মাটিতে ভাল ফলন হয়। দেশের উত্তরাঞ্চলে অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ মাস (নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারি মাঝামাঝি) পর্যন্ত বীজ বপন করা হয়। কাউনের বীজ ছিটিয়ে ও বীজ সারিতে বোনা যায়। সারিতে বীজ বপন করলে চারা পরিচর্যায় সুবিধার পাশাপাশি ফলনও বেশী পাওয়া যায়। বীজ বুননের সময় সারির দূরত্ব ২৫-৩০ সে.মি. রাখতে হয়। তবে জুমচাষীরা পাহাড়ে জুমক্ষেতে সাধারণতঃ এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত কাউনের বীজ ছিটিয়ে আবাদ করেন। কাউন চাষের জমির মাটি ঝরঝরে রাখরতে হয়। বীজ বপনের ১৫ থেকে ২০ দিন পর আগাছা পরিষ্কার করতে হয়। প্রতিবিঘা (৩৩ শতাংশ) জমি থেকে প্রায় ৩৫০ কেজি পর্যন্ত কাউন উৎপাদন করা যায়। ১৯৮৯ সালে ‘তিতাস জাত’ নামে কাউন বীজ কৃষি বিভাগ থেকে অনুমোদন লাভ করে। এ জাতটি রবি মৌসুমে ১১৫ দিনে এবং খরিপ মৌসুমে ৮৫-৯৫ দিনের মধ্য পাকে।

পাহাড় ও সমতলের মানুষের কাছে কাউন একটি সুসাদু খাবার। অতিথি আপ্যায়নে, উৎসব-পার্বণে কাউনের পায়েশের বেশ প্রচলন আছে। বিস্কুট তৈরিতেও কাউন ব্যবহৃত হয়। কাউন একটি পারিবারিক আয়বর্ধনকমূলক চাষ। এটি পুষ্টির চাহিদা পূরণেও সহায়ক। বাণিজ্যিকভাবে কাউন উৎপাদন করা গেলে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক আয় করা সম্ভব বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা।

স্থানীয় জুমচাষী গরামনি তংচংগ্যা জানান, কাউন স্থানীয়দের কাছে ‘কৈন’ নামে পরিচিত। পাহাড়ের জুম ধানের সাথে মিশ্রশস্য হিসেবে কাউন আবাদ করা হয়। বৈশাখ মাসে জুমে ধানবীজ বোনার সময় কাউনবীজ ছিটানো হয়। বৃষ্টির পাওয়ার সাথে সাথে কাউনবীজ গজিয়ে ওঠে। কাউন দেখতে অনেকটা সরষে দানার মতো। জুমিয়াদের কাছে এটি একপ্রকার ধান হিসেবে পরিচিত। কাউন গাছ সাধারণত ৫ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত উচ্চতা হয়ে থাকে। তিনি জানান, কাউন গাছ মাঝারি লম্বা, সবুজ রঙের পাতা, কান্ড শক্ত বিধায় সহজে নুয়ে পড়ে না। এর শীষ লম্বা, মোটা ও রোমশ প্রকৃতির হয়।

জুমচাষী স্বাধীন মনি তংচংগ্যা জানান, স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতিকেজি কাউন ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে কাউন উৎপাদন হয় না। জুমচাষে ধানের সাথে কাউনের মিশ্রচাষের ফলে আলাদা জমিরও প্রয়াজন হয় না। তাই খুব সহজেই কাউন চাষ করা যায়।

এদিকে আলীকদম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলী আহমেদ জানান, কাউন একটি পুষ্টিমানসমৃদ্ধ কৃষিপণ্য হলেও সরকারীভাবে চাষীদের মাঝে কাউন বীজ বিতরণ কিংবা এ চাষে উদ্বুদ্ধকরণ নেই। প্রচারণার অভাবে স্থানীয় কৃষকরাও কাউন চাষের বিষয়ে তেমন অবহিত নন।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly