পাহাড়ের প্রাকৃতিক ঝাড়ুফুল এখন আয়ের উৎস হয়ে দাড়িঁয়েছে

পুষ্প মোহন চাকমা,বিলাইছড়ি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Jharuful-hillbd24.com

পাহাড়ের বিভিন্ন বনাঞ্চলে উৎপাদিত প্রাকৃতিক ঝাড়ুফুল এখন আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। এসব পাহাড়ের ঝাড়ুফুল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই ঝাড়ুফুল বিক্রি করে অনেক পরিবার জীবন-জীবিকা নির্বাহের পথও খুঁজে পেয়েছে।

জানা গেছে, তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের বিভিন্ন বনাঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে এই ঝাড়ুফুল পাওয়া যায়। সাধারন এই ঝাড়ুফুল শীত মৌসুমে ২থেকে ৩ মাস পর্ষন্ত পাওয়া যায়। এ ঝাড়ুফুলকে পাহাড়িরা চোরনধারা বলে থাকে। এক সময় এ ঝাড়ুফুল দরিদ্র শ্রেণীর মানুষদের আয়ের বিকল্প উৎস হয়ে দাঁড়াবে তা কেউ কখনও ভাবতে পারেনি। পাহাড়ের বনাঞ্চলে এমনিতে এইসব ঝাড়ুফুল অব্যবহৃত থেকে যেতো। পাহাড়ীরা শুধু নিজেদের বাড়ীতের ব্যবহারের জন্য জঙ্গল থেকে এই ঝাড়ুফুল পরিমাণ মত সংগ্রহ করতো। কিন্তু এখন এসব ঝাড়ুফুল লাভজনক ব্যবসা এবং দরিদ্র মানুষদের জন্যও আয়ের একটি অন্যতম উৎস হিসেবে দাড়িয়েছে। ঝাড়ুফুল বিক্রি করে অনেক পরিবার সংসারের ব্যয়ও মেটাচ্ছে। অনেকের মতে, ঘরের ব্যবহার ছাড়াও এ ঝাড়ুফুল বিল্ডিং এর রং করার কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় দেশে এ ঝাড়ুফুলের এত চাহিদা বেড়ে গিয়েছে।

এলাকার ঝাড়ুফুল সংগ্রহকারী প্রিয়লাল চাকমা জানান, এ ঝাড়ুফুল একদম খাড়া পাহাড়েই বেশি জন্মে। তাই এ ঝাড়ুফুল সংগ্রহ করা খুব কষ্টের। কারণ এ গাছের পাতাগুলো ধারালো হওয়াতে সংগ্রহের সময় হাত কেটে যাচ্ছে।

বিলাইছড়ির ঝাড়ফুল ব্যবসায়ী সমর জ্যোতি চাকমা জানান, প্রতি সপ্তাহে আনুমানিক ১লাখ টাকা থেকে দেড় ল টাকা মূল্যের ঝাড়ুফুল বাজারে ওঠে। শুধু গত শনিবার(১৮ জানুয়ারী) হাটের দিনে কাপ্তাই বাজারে আনুমানিক ৬ থেকে ৭লাখ টাকার ঝাড়ুফুল বাজারে উঠেছিল। তিনি আরও বলেন, ঝাড়ুফুলের এখনও পূর্ণ মৌসুম হয়নি। পূর্ণ মৌসুমে প্রতি বাজারে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২লাখ টাকার ঝাড়ুফুল বাজারে বিক্রি হয়ে থাকে।

ব্যবসায়ী হুরিচোগা চাকমা ও মংচা প্রু মার্মা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর ঝাড়ুফুলের বাজার দর কিছুটা খুব মন্দা। গত বছর এ সময়ে প্রতিটি ফুলের আঁটি ১০টাকায় বিক্রি করা যেত। তবে সে তুলনায় এ বছর ৫টাকা থেকে ৬টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly