পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন ২০১৩ বিল সংসদে পাশের দাবিতে ঢাকায় নাগরিক সমাজের সংবাদ সম্মেলন

ppp

ঢাকা ব্যূরো, হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৩-এর বিল চলতি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পাশের দাবি জানিয়ে আজ বুধবার(২৩ অক্টোবর) নাগরিক সমাজের উদ্যোগে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউস্থ ডেইলি স্টার ভবনের তৌফিক আজিজ খান সেমিনার হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কলাম লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নূর খান লিটন, কাপেং ফাউন্ডেশন ও জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্র নাথ সরেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের মূল বক্তব্য পাঠ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাজীব মীর।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে সরকার ভূমি কমিশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। সেই লে সরকার জাতীয় সংসদে বিল আকারে আইনটি উত্থাপন করে। কিন্তু ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এখনো পার্বত্য চট্টগ্রাম ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৩ বিলের উপর মতামত প্রদানের বিষয়টি রহস্যজনকভাবে ঝুলিয়ে রেখেছে। অথচ নবম জাতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন আগামী কয়েক দিনের শেষ হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি অত্যন্ত জরুরী উল্লেখ করে সংবাদ সন্মেলনে আরও বলা হয়, এ সমস্যা সমাধানে যতই কালপেণ করা হবে ততই পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হবে। দেশের গণতন্ত্র বিকাশে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ার কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামগ্রিক পরিস্থিতি দিন দিন অবনতি হচ্ছে এবং উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। তাই অচিরেই দেশের সামগ্রিক স্বার্থে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্য জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনের মধ্যে ১৩ দফা সংশোধনী প্রস্তাব অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৩ বিল পাশ করতে হবে।
সংবাদ সন্মেলনে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৩ বিল যথাযথভাবে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পাশ করতে হবে। তিনি আরো বলেন- এত বছর পরও পার্বত্য ভূমি কমিশনের কাজ করতে পারনি। যার কারণে সেখানকার অধিবাসীরা ভূমির অধিকার ফিরে পায়নি। যে কোন সরকারের ভোটের রাজনীতির শিকার হয় আদিবাসীরা। তিনি নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসীদের সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা উল্লেখ করে তার সমাধান ও বাবাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
শামসুল হুদা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যাদেরকে নিয়োগ দেয়া হয়, তাকে অবশ্যই আদিবাসীদের প্রথা, রীতি ও পদ্ধতি সর্ম্পকে একটি বিশদ ধারণা থাকতে হবে। বিগত সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন আইন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী না হওয়ার কারণে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন কার্যকর করা যায়নি।
সঞ্জীব দ্রং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৩ বিল যথাযথভাবে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে পাশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয়ের কামনা করেন।
রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ আদিবাসীদের প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়ার নির্বাচনী ইশতেহারে অঙ্গীকার করে বর্তমান সরকার মতায় এসেছে। সেজন্য এই সরকারের দায়িত্ব পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন যথাযথ সংশোধন করে জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে বিল পাশ করে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দাদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/এনএ.

Print Friendly