পার্বত্য ভূমি কমিশনের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক তিন দিনের সফরে খাগড়াছড়িতে

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Land Commission Chairmanপার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি লক্ষে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের সদ্য নিয়োগ প্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক রোববার খাগড়াছড়িস্থ কমিশনের কার্যালয়ে প্রথম অফিস করলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের আফিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপ্রতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীর স্থলাবিসিক্ত হলেন। তিনি সরকারের নিয়োগ করা পার্বত্য ভূমি কমিশনের ৬ষ্ঠ চেয়ারম্যান। এর আগে পঞ্চম চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী দ্বায়িত্ব পালন করেন।

জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক পার্বত্য ভূমি কমিশন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিন দিনের সফরে অংশ হিসেবে শনিবার রাত পৌন ১০টায় তিনি খাগড়াছড়ি এসে পৌছান। রোববার সকাল ১০টার দিকে নব নিযুক্ত কমিশন চেয়ারম্যান খাগড়াছড়ি শহরের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পাশে অবসস্থিত পার্বত্য ভূমি কমিশন কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চাইথোঅং মারমাসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়া সফরের সময় কমিশনের সদস্য ও তিন সার্কেল চীফসহ ভূমি কমিশনের সংশ্লি¬ষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলবেন। কমিশন চেয়ারম্যান প্রথম দিন অফিস করলেও তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে কোন অনানুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজী হননি।

সূত্র জানায়, ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ারউল হক আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর সফর শেষে ঢাকার উেেদ্দশ্যে খাগড়াছড়ি ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্য ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সই হয়। পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন লক্ষে পরবর্তীতে ২০০১ সালের ২০ জুন গঠন করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভুমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছর কমিশন চেয়ারম্যানের মেয়াদ হয়ে থাকে। এই কমিশন আইনের সাথে পার্বত্য চুক্তির ধারার মধ্যে সাংঘর্ষিক থাকায় বিরোধাতœক ধারা সংশোধনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের পক্ষ ২৩ দফা সম্বলিত সুপারিশ পার্বত্য মন্ত্রনালয়ে পাঠায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ৩০ জুন পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধিদের সাথে যৌথভাবে যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৩ দফা সংশোধনীর প্রস্তাব চুড়ান্ত বিল আকারে পার্বত্য মন্ত্রনালয় ভূমি মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়।

সর্বশেষ ২০১২ সালের ৩০ জুলাই আন্তঃমন্ত্রনালয় সভায় ১৩ দফা সম্বলিত সংশোধনী প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। অবশেষে গত ২৭ মে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রী সভার নিয়মিত বৈঠকে নীতিগতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিরসন(সংশোধন) আইন ২০১৩-এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়। ৩ জুন মন্ত্রী সভায় কমিশনের আইনটি চুড়ান্ত অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে ওই বছর ১৬ জুন জাতীয় সংসদে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন(সংশোধন) আইন ২০১৩ এর নামের বিল উপস্থাপন করার পর ভূমি মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিরসন (সংশোধন) আইন ২০১৩ এর মন্ত্রীয় সভায় অনুমোদন থেকে জাতীয় সংসদে বিল আকারে উপস্থাপনের পর পর অসন্তোষ দেখা দেয়।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly