পার্বত্য চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পুর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে– দীপংকর তালুকদার

বিশেষ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

D 228 (5)_DMEABS

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এমপি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির কতটুকু বাস্তবাযন হয়েছে তা কারোর মূখের নয়। চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারী তারিখের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ কথা প্রমানিত হয় যে এ চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পুর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, ১৯টির আংশিক বাস্তবায়ন ও ৯টির বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষকদে কার্যকর করার ব্যাপারে সরকারী নির্লিপ্ততার অভিযোগ খন্ডন করে প্রতিমন্ত্রী বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের বাধার কারনে প্রকাশিত গেজেট প্রচারে সরকার বিরত রয়েছে। একই অবস্থা ঘটেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশন আইন বিষয়ে বিরাজিত সমস্যা।

আজ সোমবার(২ ডিসেম্বর) রাঙামাটিতে পার্বত্য চুক্তির ১৬তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান শেষে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন একেঅপরকে দোষারোপ করে নিজেদের শক্তি য় হচ্ছে মাত্র। চুক্তি বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। চুক্তির ফলে তিন পার্বত্য জেলার তিন জন নির্বাচিত সাংসদকে প্রতিমন্ত্রী পদ মর্যাদায় মন্ত্রী, উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান ও টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান মনোনীত করার মধ্যে সরকার সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে যারা অভিযোগ করেন তাদের মনে রাখা উচিত যে চুক্তির ফলে সৃষ্ঠ পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সন্মানিত চেয়ারম্যানের পদটিও প্রতিমন্ত্রীর পদ মর্যাদায় সম্পন্ন। একথাও বাস্তবার নিরিখে স্বীকার করতে হবে।পার্বত্য চট্টগ্রামের গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা উত্তোরনের কথা যারা উচ্চকণ্ঠে বলে থাকেন তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্বাপর সময়ে কতটুকু গণতান্ত্রিক ছিলেন বা আসেন নিজেদেরকে উপলব্দি করা উচিত।

পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ বিধিমালা গেজেট হওয়ার পরও তা কেন প্রকাশিত হচ্ছে না সে ব্যাপারে জানতে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। অনেক ষিয়ে ছাড় দেয়া গেলেও অর্থ বিষয়ক একটি নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারে আঞ্চলিক পরিষদের অভিযোগ থাকায় গেজেটি প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। একই অবস্থা বিরাজ করছে ভূমি কমিশন প্রনয়নের ক্ষেত্রে। এই আইনের ব্যাপারে আঞ্চলিক পরিষদের ১৩টি সংশোধনীর মধ্যে ১০টি সংশোধনী সরকারীভাবে গৃহীত হয়েছে। এবং বাকী তিনটি সংশোধনী আইন মন্ত্রনালয়ের পাঠানোর পর তা এ মন্ত্রনালয়ের বিচেনাধীন রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও তদপরবর্তী আইন সমুহের কিছু কিছু সংশোধনী যা আঞ্চলিক পরিষদ ও জনসংহতি সমিতি পরিবর্তন করতে চাইছেন সেগুলি অনেকটাই অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন ভূমি কমিশনকে পার্বত্য চট্টগ্রা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে অধীনের আনার যে দাবি আঞ্চলিক পরিষদের পক্ষ থেকে আনা হয়েছে তা এই মহুর্তে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মচারী, কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা ও ঢাকায় স্থাপিত বিশ্রামাগারের ভাড়া প্রদানের বিষয়গুলো ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে তিনি জানান।

তার আলোচনা শেষের দিকে এসে তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডের সাথে ব্রিটিশ সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,১৯৯৮ সালের ১০ এপ্রিল ৯দফা চুক্তি স্বারিত হয়েছিল। তার মধ্যে ২০১৩ সালে ২ ডিসেম্বর পর্ষন্ত মাত্র ৪টি দফা বাস্তবায়িত হয়েছে। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলে তার অর্থ এই নয় যে আয়ারল্যান্ডের মত আমরা পিছিয়ে থাকবো। তবে এ জন্য ধৈর্য্যশীল সহযোগিতামূলক অবস্থান গ্রহন প্রয়োজন।

তিনি গত ১৬বছরে চুক্তি পরবর্তী সময়ে পার্বত্যাঞ্চলে যে অবস্থা বিরাজ করছে তাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন সকলকে ধৈর্য্য ধরে শান্তিপুর্ন সহঅবস্থানের অহ্বান জানান।

সংবাদ সন্মেলনে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আশুতোষ বড়ুয়া,সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মুছা মাতব্বর, ও জেবু নেসা রহিমসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly