পার্বত্য চুক্তির ১৬ বছরেও পার্বত্য সমস্যা সমাধানে সরকার ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহন করেনি— সন্তু লারমা

স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম 

h-1_DMEABS

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) অভিযোগ করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চুক্তির ১৬ বছর অতিবাহিত হলেও সরকার তথা শাসক গোষ্ঠী সমাধানের জন্য কোন ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহন করেনি। বরং নৈতিবাচক ভূমিকা গ্রহন করে চলেছে।

তিনি আরও বলেন,বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে পার্বত্যাঞ্চলে অপারেশন উত্তোরণ নামে এক ধরনের সেনা কর্তৃত্ব বলবৎ রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল ক্ষেত্রে এমনকি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অদৃশ্য কর্তৃত্ব রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের বাস্তবতাকে নানাভাবে নিয়ন্ত্রিত ও বাধা গ্রস্থ করা হচ্ছে। এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠী তা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না।

আজ শনিবার(২৩ নভেম্বর) রাঙামাটির কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের(টিটিসি) দিন ব্যাপী জব প্লেসমেন্ট সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সন্তু লারমা এসব কথা বলেন।

h-2_DMEABS

রাঙামাটি কারিগরী প্রশিক্ষন কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্কিলস এন্ড ট্রেনিং এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট(স্টেপ)-এর সহযোগিতায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন টিটিসি-এর অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ আইনুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ বাঞ্ছিতা চাকমা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ও রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি মাহবুবুর রহমান। পরে সন্তু লারমা রাঙামাটি কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বিভিন্ন ট্রেডের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। দিন ব্যাপী সেমিনারে সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তা, শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও সংবাদকর্মীরা অংশ নেন।

সরকার পার্বত্য চুক্তির ধারাগুলো অকার্যকর রেখে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানাভাবে বাধা গ্রস্থ করছে অভিযোগ করে সন্তু লারমা আরও বলেন, পার্বত্য চুক্তির আলোকে আঞ্চলিক পরিষদ আইন, জেলা পরিষদ আইনের ধারাগুলো কার্যকর করার কথা। কিন্তু এই আইনগুলো যাতে কার্যকর হতে না পারে তার জন্য সরকার তথা শাসকগোষ্ঠী উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে নানান কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক অর্থনৈতিক এবং এ অঞ্চলের স্থায়ী অধিবাসীদের জীবনে নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা, সাম্প্রদায়িকতা এবং অগণতান্ত্রিকতার মূল্যবোধের কারণে একটা সব সময় কি হবে, কি হবে মন মানসিকতা বিরাজ করছে। যা অর্থনৈতিক,কর্মসংস্থান ও আত্নকর্ম সংস্থান ক্ষেত্রে নানাভাবে বাধাগ্রস্থ করছে। ব্যাংকের সুযোগ-সুবিধার লাভ করতে গিয়ে অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিভিন্নভাবে অবহেলিত,উপেক্ষিত ও কোন কোন ক্ষেত্রে লাঞ্ছিত হচ্ছে। এতে তাদের কি করে আত্নকর্ম সংস্থান যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে।

পার্বত্যাঞ্চলে চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে অভিযোগ করে সন্তু লারমা তার বক্তব্যে আরও বলেন, ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কারণে পার্বত্যাঞ্চলের মানুষ আজ জিম্মি। সাধারন মানুষ জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ভূগছেন এবং একটা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীদের কার্যক্রমের ফলে তিনি(সন্তু লারমা) নিজেও আজ বাস্তু ভিটা হারা। এমনকি নিজের বাস্তুভিটাতেও যাওয়ার তো দূরের কথা পা পর্ষন্ত রাখতে পারছেন না।

পার্বত্যাঞ্চলের প্রেক্ষাপটে এ অঞ্চলের আইন-শৃংখলা প্রতিষ্ঠা পেতে হবে উল্লেখ তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে কে শাসন করবে, কে হবে কর্তৃপক্ষ, এখানে আইন-শৃংখলার নিয়ন্ত্রন করবে কে তার কোন উত্তর নেই। অথচ পার্বত্য চুক্তির আলোকে তিন পার্বত্য জেলার নিয়ন্ত্রন ও কর্তৃপক্ষ হিসেবে পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদকে সর্বময় ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতা দেয়া তো দূরের কথা কোন মূল্যায়নও করা হচ্ছে না। আঞ্চলিক পরিষদকে সরকার সম্পুর্ন অকার্যকর করে রাখা হয়েছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly