পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন,সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের দাবিতে ঢাকায় মানববন্ধন

ডেস্ক রিপোর্ট, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

adi
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের দাবিতে বুধবার ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তথ্য প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নিপুন ত্রিপুরার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, শাহবাগস্থ জাতীয় যাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্যে দেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, ঢাকা মহানগর শাখার পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলভ চাকমা, ঢাকা মহানগর শাখার আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সভাপতি নিমাই মাহাতো, ঢাকা মহানগর শাখার মারমা স্টুডেন্ট কাউন্সিল-এর সভাপতি পাইচাউ মারমা এবং বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের মহানগর শাখার সভাপতি পাপ্পু ডিও এবং ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের নিপুন ত্রিপুরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহেল দ্রুং।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরকারী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং নাগরিক সমাজের আপত্তি ও বিরোধীতা সত্ত্বেও জেলা পরিষদসমূহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না করে সরকার অগণতান্ত্রিক উপায়ে জেলা পরিষদসমূহের অর্ন্তবর্তীকালীন কমিটিকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট থেকে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে উন্নীত করেছে। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন প্রণয়ন করেছে। এসব কার্যক্রম এবং পদক্ষেপসমূহ সম্পূর্ণভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মৌলিক বিষয়বস্তু পরিপন্থী এবং জুম্ম জাতীয় স্বার্থ ও অধিকার পরিপন্থী বলে অখ্যায়িত করেন।

বক্তারা আরও বলে, পার্বত্য চুক্তির অনুযায়ী ৩৩টি দপ্তরের মধ্যে স্থানীয় পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যটন প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহে হস্তান্তর করা হয়নি। অন্যদিকে চুক্তির ১৭ বছরেও চুক্তির অন্যতম মৌলিক বিষয় সকল অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প, এপিবি ও ভিডিপি ক্যাম্প এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। বরং বেআইনীভাবে সামরিক-বেসামরিক স্থাপনা, গ্যারিসন নির্মাণ, সম্প্রসারণ, লীজ, অধিগ্রহণ, পর্যটন কেন্দ্র ও রিসোর্ট, বিলাসবহুল হোটেল-মোটেল প্রভৃতি নামে জুম্ম জনগণের ভূমি দখলের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখা হয়েছে। চুক্তির অন্যতম মৌলিক বিষয় পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রণীত না হওয়ায় বিভিন্নভাবে পার্বত্যাঞ্চলে বহিরাগত সেটেলার পুনবার্সন এখনো অব্যাহত রয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক(ইউ পি আর) অধিবেশনে পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ অন্যান্য অধিকারসমূহ সুপারিশ হিসেবে গ্রহণ করলেও বর্তমানে তার বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে বক্তারা বলেন। বক্তারা অতিশীঘ্রই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানা। এ সময় সমাবেশে চার দাবি উত্থপান করা হয়। সেগুলো হল অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ,পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী সেনাশাসন ‘অপারেশন উত্তরণ’সহ সকল প্রকার অস্থায়ী সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার,পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের অনুরূপ সমতলেও পৃথক ভূমি কমিশন গঠনে অবিলম্বে আইন প্রণয়ন করা এবং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দেশের আদিবাসী জাতিসত্ত্বাসমূহের আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করা।

সমাবেশে রবীন্দ্র নাথ সরেন বলেন, সরকার উন্নয়নের নামে ইকোপার্ক, সাফারী পার্ক, জাতীয় উদ্যানগুলো আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় হচ্ছে। ফলে আদিবাসীরা তাদের প্রথাগত ভূমি থেকে তো উচ্ছেদ হচ্ছে সাথে এই ভূমির জন্যে বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তিনি অতিসত্বর সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানান ।

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, আদিবাসীদের উপর নির্যাতনের মাত্রা ও ভূমি বেদখলের মাত্রা দিনদিন বেড়ে চলেছে। তিনি অবিলম্বে সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানান এবং বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly