পার্বত্যাঞ্চলের সম্ভাবনাময় নিপুন শিল্পকর্ম কোমর তাঁত

জাহাঙ্গীর আলম রাজু, দীঘিনালা, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Sat Pic2_DMEABS

এসব কাপড় বিদেশে রপ্তানি কিংবা দেশীয় হাট-বাজারে বাজারজাতের নিশ্চয়তা না থাকায় নান্দনিক ডিজাইনের কাপড় তৈরী করেও বাণিজ্যকভাবে অগ্রসর হতে পারছে না পাহাড়ের কোমর তাঁতীরা। তাই কোমর তাঁতীদের স্বার্থে উৎপাদিত পোষাক পণ্য দেশীয় বাজারে বাজারজাত এবং বিদেশে রপ্তানীর নিশ্চয়তা প্রদানের দাবী জানিয়েছেন পাহাড়ের অসংখ্য কোমর তাঁতী পরিবার। কোমরের সাথে দড়ি বেধে কাপড় তৈরী করার কারনে এই নিপুন শিল্পকর্মের নাম দেয়া হয়েছে কোমর তাঁত। তবে গোত্র বেধে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নাম। চাকমা সম্প্রদায়ের সজপদর ও বেইন, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিখান দৈ এবং মারমা সম্প্রদায়ের নিকট রাখেং নামে পাহাড়ে কোমর তাঁতের রয়েছে আলাদা পরিচিত। বৌদ্ধ ধর্মালম্বী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসবেও ব্যবহার করা হয় কোমর তাঁত। বিশাখা প্রবর্তিত (২৪ ঘন্টার মধ্যে তৈরীকৃত চীবর) কঠিন চীবর দানোৎসবে চাকমা সম্প্রদায়ের মহিলারা চীবর (রং কাপড়) বুনতে ব্যবহার করেন ঐতিহ্যমন্ডিত এই কোমর তাঁত। তাই শুধু কাপড় বুনতে নয় ধর্মীয় কাজেও ব্যবহারের জন্য বৌদ্ধ ধর্মালম্বী আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারীরা খুবই যত্ন সহকারে ধরে রেখেছেন ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন এই নিপুন শিল্পকর্ম।

CIMG7722_DMEABS

সবুজ বনানী ঘেরা পার্বত্যাঞ্চলের আদিবাসী পাহাড়ী পল্লীর প্রতি ঘরেই রয়েছে কোমর তাঁত। বর্ষাকালে জুমচাষসহ নানান কাজের ঝামেলায় কোমর তাঁতে তেমন একটা কাপড় বুনা হয় না তাদের। তাই কোমর তাঁতে কাপড় বুনতে শীতকালীন সময়টিকেই উপযুক্ত সময় হিসাবে বেছে নেন পাহাড়ী মহিলারা। তাই প্রতি বছরের মতো এবছরও শীতের শুরুতেই পুরোদমে শুরু হয়েছে কোমর তাঁতে কাপড় বুনা। এই সময়ে যে কোনো পাহাড়ী পল্লীতে বেড়াতে গেলে দেখা যাবে পাহাড়ী মহিলাদের ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁতের তৈরী নিপুন শিল্পকর্ম। তবে এই শিল্পকর্মে পাহাড়ী পুরুষদের নেই কোনো পারদর্শিতা। ঘরের কোনে কিংবা গাছের ছায়ায় বসে পাহাড়ী মহিলাদের কোমর তাঁতে তৈরী করা নানান বাহারি ডিজাইনের কাপড় স্থানীদের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও হয়েছে জনপ্রিয়। সময়ের পরিবর্তনে পাহাড়ী মহিলাদের এই নিপুন শিল্পকর্মের চাহিদা বাড়লেও বাড়েনি সুযোগ সুবিধা।

আর্থিক সংকট এবং বাজারজাতের নিশ্চয়তা না থাকায় শৈল্পীক পাহাড়ের এই নিপুন শিল্পকর্ম দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪১ বছর পরও পাহাড়ের সীমানা অতিক্রম করতে পারেনি। অতীতে জুমের কাপাষ তুলার সূতোয় কোমর তাঁতে কাপড় তৈরী করার নজির থাকলেও বর্তমানে জুমে কাপাষ তুলা তেমন একটা উৎপাদন না হওয়ায় পাহাড়ের প্রাচীন এই নিপুন শিল্পকর্মেও লেগেছে আধুনিকতার ছোয়া। বর্তমানে বাজারের দেশী ও বিদেশী সূতার সংমিশ্রনে তৈরী করা হচ্ছে পাহাড়ী মহিলাদের পিনুন হাদিসহ নানা ডিজাইনের কাপড়। উলের সূতা কিংবা পুরানো জাম্পারের সূতোয় তৈরী করা হচ্ছে পুরুষদের মাফলার, বিছানার চাদর, মহিলাদের গায়ের চাদর ও ছোট শিশুদের স্যুয়েটার ইত্যাদি।

দেশব্যাপী এসব পোষাক পণ্যের চাহিদাও কম নয়। তারপরও আর্থিক সংকটের কারনে অগ্রসর হতে পারছে না পাহাড়ের কোমর তাঁতীরা। অতীতে শুধুমাত্র পরিবারের চাহিদা মোতাবেক কোমর তাঁতে কাপড় তৈরী করলেও বর্তমানে অনেক পাহাড়ী মহিলা এই কোমর তাঁতকে বেছে নিয়েছেন বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসাবে। কারন জুমচাষের ওপরই নির্ভরশীল পরিবারগুলো এখন আর জুমের ওপর নির্ভর করতে পারছেন না। দেশের চাষাবাদে আধুনিকতার ছোয়া লাগলেও পাহাড়ের জুমচাষ চলছে সেই সনাতনী পদ্ধতিতেই।

তাই জুমের পরিবর্তে কোমর তাঁতকে ঘিরেই তারা দেখছেন বেঁচে থাকার স্বপ্ন। পাহাড়ের কোমর তাঁতীদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেই সরকারী কোনো উদ্যোগ কিংবা পরিকল্পনা। তারপরও পার্বত্যাঞ্চলের চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা, বম ও লুসাইসহ ১০ ভাষাভাষি প্রায় ১৩ টি পাহাড়ী সম্প্রদায়ের মহিলারা এই নিপুন শিল্পকর্মে দৃষ্টিনন্দন ডিজাইনের কাপড় তৈরীর মাধ্যমে অুন্ন রেখেছেন সবুজ পাহাড়ের প্রাচীন ঐতিহ্য। অবাক হওয়ার বিষয় হচ্ছে কোমর তাঁতে যারা নিখুত কারুকাজ আর বাহারী ডিজাইনের কাপড় বুনে আসছেন তাদের কারোরই নেই এ বিষয়ে কারিগরি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিা। তারপরও তাদের এই নিপুন শিল্পকর্ম পাহাড়বাসীকে করেছে সমাদৃত। তাদের এই নিপুন শিল্পকর্ম যুগ যুগ ধরে বহন করছে পাহাড়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার স্বতন্ত্র পরিচিতি।

Baimbona_DMEABS
কোমর তাঁতের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ নির্ধারিত নয়: 
পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁতের দৈর্ঘ্য কিংবা প্রস্থের স্থায়ীত্ব নির্ধারিত নয়। বিভিন্ন প্রকারের কাপড় বুননের সময় কাপড়ের সাইজ অনুসারে কোমর তাঁতের দৈর্ঘ্য প্রস্থ ব্যবহার করা হয় বলে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দীঘিনালা উপজেলা সদরের লিপি দেওয়ান জানান, পাহাড়ী মহিলাদের ব্যবহৃত পিনন হাদি, গায়ের চাদর, বিছানার চাদর, উলের চাদর ও পুরুষদের মাফলারসহ নানা ডিজাইনের কাপড় তৈরী করার সময় প্রয়োজন মোতাবেক কোমর তাঁতের দৈর্ঘ্য প্রস্থ ছোট বড় করা হয়ে থাকে। এ কারনেই কোমর তাঁতের স্থায়ী দৈর্ঘ্য প্রস্থ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। কোমর তাঁত তৈরী সম্পর্কে জানতে চাইলে লিপি দেওয়ান জানান, কোমর তাঁতে ব্যবহৃত উপাধান কিংবা যন্ত্রাংশ সমূহ হাট-বাজারে পাওয়া যায়না। কোমর তাঁতের সিংহভাগ জুড়েই রয়েছে বাঁশের তৈরী উপাধান। তাই কোমর তাঁতে ব্যবহৃত উপাধান কিংবা যন্ত্রাংশ সমূহ পাহাড়ী মহিলারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংগ্রহ করে থাকেন। ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দেড় থেকে দুই হাজার খরচ হয় বলেও জানান তিনি।

কোমর তাঁতে ব্যবহৃত উপাধান পরিচিতি :
কোমর তাঁতে ব্যবহৃত উপাধান সমূহের পরিচিতি পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্রীক ভাষায় নাম করন কিংবা উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই এসব উপকরনের বাংলা এবং পূতিগত নাম কিংবা পরিচিতি কোথাও পাওয়া যায়নি। পার্বত্যাঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ চাকমা সম্প্রদায় কোমর তাঁতে ব্যবহৃত প্রতিটি উপাধানের নাম করন করেছেন তাগলক, তাচ্ছিচাম, তারাম, বিয়্যং, ব’হাদি, সুচ্ছ্যেক বাঁশ, স্যিয়েঙ, তাগুন অবাঁশ, থুরচুম সূদনালি ইত্যাদি নামে। তবে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর গোত্রবেধে কোমর তাঁতে ব্যবহৃত এসব উপাধান সমূহের ভিন্ন ভিন্ন নাম কিংবা পরিচিতি রয়েছে বলে জানান দীঘিনালা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অবর্না চাকমা।

কোমর তাঁতে যেভাবে বুনা হয় নান্দনিক ডিজাইনের কাপড়: 
এক সময় পার্বত্যাঞ্চলের জুমে উৎপাদিত কাপাস তুলার ওপর নির্ভরশীল ছিল কোমর তাঁত। জুমের কাপাস তুলা চড়কায় ঘুরিয়ে সূতা সংগ্রহ করে কোমর তাঁতে তৈরী করা হতো পাহাড়ী মহিলাদের ব্যবহৃত পিনন হাদিসহ নানা প্রকার নান্দনিক ডিজাইনের কাপড়। এখন আর সেই সুযোগ নেই বলে জানান, কোমর তাতীরা। সময়ের পরিবর্তনে পাহাড়ের সহজ সরল কোমর তাঁতী পাহাড়ী মহিলাদের মাঝেও লেগেছে আধুনিকতার ছোয়া। তাই পাহাড়ের কোমর তাঁত বাজারের সূতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।

কোমর তাঁতে কিভাবে কাপড় বুনা হয় জানতে চাইলে দীঘিনালা উপজেলার থানাপাড়ার কানন চাকমা জানান, বাজার থেকে নানা রং এর দেশী বিদেশী সূতা ক্রয় করে মার দিয়ে শুকানো হয়। শুকনো সূতা চড়কায় ঘুরিয়ে কোমর তাঁতে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। তারপর রং বেরঙের সূতা সংমিশ্রনে দু’পাশে খুটি বসিয়ে বেইন বাজানো অর্থাৎ কোমর তাঁতে সূতা লাগানো হয়। বেইন বাজানো থেকে শুরু করে বুনন কাজ সম্পন্ন করা পর্যন্ত কোমর তাঁতীরা একাই এসব কাজ করে থাকেন বলে জানান তিনি।

SUPRIYOO_DMEABS

যে কারনে জনপ্রিয় কোমর তাঁতে উৎপাদিত পোষাক পণ্য: 
পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ী মহিলাদের ব্যবহৃত পরিধান পাহাড়ের বাইরে কোথাও পাওয়া যায় না। তাই কোমর তাঁতে উৎপাদিত পোষাক পণ্যের পাহাড়জুড়ে রয়েছে আলাদা জনপ্রিয়তা। পাহাড়ী মহিলারা গোত্রবেধে সেই আদিকাল থেকে ব্যবহার করে আসছেন কোমর তাঁতে উৎপাদিত পোষাক পণ্য। পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ী মহিলাদের পরিধান দেখে সহজেই নির্ণয় করা যায় কে কোন সম্প্রদায়ের। তাই কোমর তাঁতে উৎপাদিত পোষাক পণ্য পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র পরিচিতি বহনের পাশাপাশি পার্বত্যাঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বলে জানান শিক্ষক রাজীব ত্রিপুরা। কোমর তাঁতে উৎপাদিত পোষাক পণ্য দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান সৃষ্টি করতে না পারলেও নিজেদের পরিচিতি বহনের স্বার্থে হলেও কোমর তাঁতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান তিনি।

সহজ শর্তে ঋনদান ও প্রত্যেক উপজেলায় বিসিক ব্যাংক চালু করার দাবী :
পাহাড়ের নিপুন শিল্পকর্ম কোমর তাঁতে উৎপাদিত পোষাক পণ্যের বাণিজ্যিক প্রসারের স্বার্থে পার্বত্যাঞ্চলের প্রতিটি উপজেলায় বিসিক ব্যাংকের শাখা স্থাপন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন খাগড়াছড়ি পাহাড়ী ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারন সম্পাদক চিরজ্যোতি চাকমা। কারন সোনালী কিংবা কৃষি ব্যাংক থেকে কোমর তাঁতীদের ঋনদানের ব্যবস্থা থাকলেও মরগেজ ছাড়া কাউকে এখাতে ঋন দেয়া হয় না। যার ফলে কোমর তাঁতীরা মরগেজও দিতে পারেনা ঋনও পায়না। তাই পাহাড়ের কোমর তাঁতীদের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষে সহজ শর্তে ঋনদানের ব্যবস্থা কিংবা প্রত্যেক উপজেলায় বিসিক ব্যাংক স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ বিষয়ে দীঘিনালা কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সুব্রত ত্রিপুরা জানান, আমরা কোমর তাঁতীদের ঋন দিতে পারি কিন্তু মরগেজ কিংবা জামানত ছাড়া কাউকে দিতে পারি না। তাছাড়া কোমর তাঁতীদের সহজ শর্তে ঋনদানেরও কোনো ব্যবস্থা নেই বলে জানান তিনি।

Handloom Pic-1_DMEABS

পার্বত্য চুক্তির ১৬ বছরেও কোমর তাঁতীদের স্বার্থে গ্রহন করা হয়নি কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ:
এদিকে পার্বত্য চুক্তির ১৬ বছরেও পাহাড়ের সম্ভাবনাময় নিপুন শিল্পকর্ম কোমর তাঁতিদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তাই পাহাড়ের এই পোষাক শিল্পকে বাণিজ্যিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা প্রদানসহ সরকারী কিংবা বেসরকারী শিল্প উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পাহাড়ের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এব্যাপারে রাঙমাটির ভেদভেদী এলাকার সীমা দেওয়ান জানান, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষেরর পর পাহাড়ের উন্নয়নে নানামুখী পদপে গ্রহন করা হলেও তিন পার্বত্য জেলার কোমর তাঁতী পাহাড়ী মহিলাদের ভাগ্য উন্নয়নে অদ্যাবধি কোনো প্রকার পদপে গ্রহন করা হয়নি। তাই পাহাড়ের সম্ভাবনাময় এই পোষাক শিল্পের বাজারজাতের নিশ্চয়তার পাশিপাশি উৎপাদনকারীদেরকে আর্থিকভাবে সহযোগীতা প্রদানের ল্েয মরগেজ বিহীন ঋনদানের ব্যবস্থা চালু করার দাবী জানান তিনি।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার কামাকোছড়া গ্রামের ছায়নিকা ত্রিপুরা জানান, পরিবারের আর্থিক চাহিদা পুরন করতে কোমর তাঁতকেই সহায়ক শক্তি হিসাবে বেছে নিয়েছি। কোমর তাঁতে তৈরী করা কাপড় বিক্রি করে সাময়িকভাবে পরিবারের চাহিদা পুরন হলেও স্থায়ীভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ল্েয পার্বত্যাঞ্চলের কোমর তাঁতীদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা ও উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর বাজারজাতের নিশ্চয়তার দাবী জানান তিনি। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা সদরের অনামিকা চাকমা ও দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের উজানছড়ি গ্রামের অমিয় ত্রিপুরা জানান, এক সময় পরিবারের প্রয়োজনে আমরা কোমর তাঁতে কাপড় তৈরী করতাম। এখন আমাদের মত অনেকেই কোমর তাঁতে তৈরী করা কাপড় বিক্রি করে জীবীকা নির্বাহ করছে। তাই জীবন এবং জীবীকার প্রয়োজনে আর্থিক সহযোগিতাসহ বাজারতাতের নিশ্চয়তা দেয়া হলে দেশের অন্যান্য পোষাক শিল্পের মত পার্বত্যাঞ্চলের কোমর তাঁতীরাও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সম হবে বলে জানান তারা।

Sat 1_DMEABS

দীঘিনালা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এনজিও কর্মী শতরুপা চাকমা জানান, কোমর তাঁত পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর প্রাচীন ঐতিহ্য। অনেক সমস্যার মাঝেও এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন পাহাড়ী সম্প্রদায়ের কোমর তাঁতী মহিলারা। কোমর তাঁতে তৈরী করা কাপড় নান্দনিক এবং দৃষ্টি নন্দন। তাই পাহাড়ী মহিলাদের নিখুত কারুকাজ আর বাহারী ডিজাইনে তৈরী করা কাপড় যে কারোরই দৃষ্টিকাড়ে।

এক সময় শুধুমাত্র পরিবারের প্রয়োজনে কোমর তাঁতে কাপড় বুনতো পাহাড়ী মহিলারা। সময়ের পরিবর্তনে কোমর কোমর তাঁতে তৈরী করা কাপড় বিক্রি করে জীবীকা নির্বাহ করছেন পাহাড়ের অসংখ্য কোমর তাঁতী পরিবার। তাই প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগীতা এবং বাজারজাতের নিশ্চয়তা পেলে নিজেদের স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ের কোমর তাঁতী পরিবারগুলো এই নিপুন পোষাক শিল্পের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে সম হবে বলে জানান তিনি।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/এনএ.

Print Friendly