পানছড়ির তেতুল যাচ্ছে ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, কিশোরগঞ্জে!

নূতন ধন চাকমা,পানছড়ি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Tetul,(Picture)Panchari,2.3.14.dochillbd24.com

কয়েক বছর আগেও পাহাড়ের বিভিন্ন গ্রামে গাছে গাছে পঁচে নষ্ট হয়ে যেত অত্যন্ত ত্বক স্বাদের তেতুল। কিন্তু কালের আবর্তে সেই তেতুল আর পঁচে গিয়ে নষ্ট হওয়ার বস্তু নয়। এখন এসব তেতুল বিক্রি করে সংসারের আয়ও মেটানো সম্ভব।

 রোববার হাটের দিন পানছড়ি বাজারের তেতুল বিক্রেতা চন্দ্র সিং চাকমা সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

দুর্গম পাহাড়ী গ্রাম থেকে পানছড়ি বাজারে আসা তেতুুল বিক্রেতা চন্দ্র সিং চাকমা হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদককে জানান, সাত কেজি পাঁকা তেতুল বাজারে বিক্রি করতে এসেছেন। গত কয়েক বছর আগে এসব তেতুল গাছে গাছে  তেতুল পচেঁ যেত। তখন কার তেতুল কে খায়? এখন সে তেতুল রীতিমতো বিক্রে হচ্ছে বাজারে বেশ দামে। প্রথম প্রথম তিনি তেতুল বাজারে আনতে লজ্জা পেতেন। গত সপ্তাহে বাজারে দেখেছি কয়েকজন পাহাড়ি তেতুল বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ৩৫ টাকা করে। তাদের দেখে এ সপ্তাহে তিনিও সাত কেজি তেতুল বিক্রি করতে এনেছেন।

তিনি আরও জানান, বাজারে নিয়ে আসার সাথে সাথে প্রতি কেজি ৪০টাকা করে বিক্রি করেন। অন্যান্য মালামাল নিয়ে আসলে এত দ্রুত বিক্রি করা যায় না। কিন্তু তেতুল দ্রুত বিক্রি করতে পেরেছি। এই তেতুলের টাকা দিয়ে আমার সংসারের খরচ মেটাবো।

খাগড়াছড়ি থেকে তেতুল ক্রয় করতে অাসা ব্যবসায়ী নিখিল বণিক জানান,  গত দু’ বছর ধরে এ তেতুল ব্যাবসা করে আসছেন। হাটের দিন পানছড়ি,খাগড়াছড়ি, মাইসছড়ি, দীঘিনালা, মহালছড়ি ভাইবোনছড়া থেকে তেতুল ক্রয় করেন। তেতুল মৌসুমে প্রতি সপ্তাহে কমপে ২০হাজার কেজি তেতুঁল পাওয়া যায়। তা বিক্রি করে খরচ বাদে প্রতি সপ্তাহে আমার ১০হাজার টাকা আয় হয়। তাছাড়া তার সাথে কয়েকজনের মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে বলে তার দাবি।

তিনি আরও বলেন, পানছড়ি বাজার থেকে ৬শ কেজি তেতুল ক্রয় করেছেন। এসব তেতুল খাগড়াছড়ি শহরের একটা গোডাউন রাখা হয়। সেখান থেকে ঢাকা, নারয়নগঞ্জ,কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারী দরে বিক্রি করে থাকেন। তাতে প্রতি কেজি তেতুল ৫০ থেকে ৫৫টাকা দরে বিক্রি করেন। এতে তার প্রতি সপ্তাহে কমপে ১০ হাজার টাকা লাভ থাকে।

পানছড়ির  উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্মা অরুনাংকর বলেন, বাজারে তেতুল বিক্রি হওয়া  অনেকে এখন তেঁতুল গাছ লাগাচ্ছেন।  তেতুল গাছ লাগানোর পর তেমন পরিশ্রম করতে হয় না। বড় তেতুল গাছ থেকে প্রতি বছর কয়েকশ কেজি তেতুল পাওয়া যায়।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly