পানছড়িতে মাতৃভাষা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সহস্রাধিক শিশু শিক্ষার্থী

নূতন ধন চাকমা, পানছড়ি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Panchari,22hillbd24.com
ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় শিশু ক্ষমতায়ন প্রকল্পের মাতৃভাষা ভিত্তিক ৩৪টি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফলে এ প্রকল্পের সহস্রাধিক আদিবাসী শিক্ষার্থী মাতৃভাষার শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে ও ৩৪জন শিক্ষক-শিক্ষিকা বেকারে হয়ে পড়বেন।

জানা গেছে, সেভ দি চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল সহযোগিতায় খাগড়াছড়ির স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং কল্যাণ সমিতি উদ্যোগে গত ২০০৭ সাল পরিচালিত শিশুর মতায়ত প্রকল্পের মাতৃভাষা ভিত্তিক ৩৪টি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এ উপজেলার অবহেলিত আদিবাসী চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠিকে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ পাওয়ায় শিশু শিক্ষাথী শিশু অধিকার সম্পর্কে পরিপূর্ণ ধারনা, মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগসহ শিশুর চারিরিক, মানসিক, বুদ্ধি বৃত্তীয় বিকাশ, সামাজিক ও আবেগিক বিকাশ সম্পর্কে শিক্ষার সুযোগ পায়। কিন্তু ডিসেম্বর মাসে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে আদিবাসী শিশুরা মাতৃভাযার শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। তবে একই প্রকল্পের কার্যক্রম মেয়াদ জেলার দিঘীনালা, মহালছড়ি, খাগড়াছড়ি সদরসহ তিন উপজেলার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও পানছড়ি উপজেলায় এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না।

স্কুলের শিক্ষার্থী সরমিতা চাকমা, এনেসা চাকমা, নিকা চাকমা, ইনা চাকমা জানায়, তাদের স্কুল বন্ধ হলে মাতৃভাষার শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। তারা প্রকল্প বৃদ্ধির জন্য সংশিষ্ট সংস্থার কাছে দাবি জানায়।

পানছড়ি ইউনিয়নের দুর্গম করল্যাছড়ির রত্মময় পাড়ার অংকুর প্রি-স্কুলের শিক্ষিকা জ্যোস্না চাকমা জানান,এ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা না হলে উপজেলার সহস্রাধিক শিশু শিক্ষার্থী মাতৃভাষার শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। শিক্ষকরা বেকার হবেন।

পানছড়ি উপজেলা জাবারাং কল্যান সমিতির প্রকল্প কর্মকর্তা মুনি লাল চাকমা জানান, ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কার্যক্রমে ৩৪টি স্কুল রয়েছে। এদের মধ্যে চাকমা ভাষায় ২৫টি, টিপুরা ককবরক ভাষায় ৯টি রয়েছে। এদের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র-২০টি। এ স্কুলে ৫ বছর বয়সী শিশুদের প্রথমে মাতৃভাষা নির্দেশনা এবং পরে জাতীয় ভাষায় এক বছর পড়ানো হয় । সাথে সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করা।এসব স্কুল রয়েছে ২০টি আর কমিউনিটি লার্নিং সার্কেল (সিএলসি) স্কুল ১১টি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম ও ২য় শ্রেণী পিছিয়ে পড়া শিশুদের খেলায় খেলায় শিক্ষা বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের উপর শিক্ষা দেওয়া হয়।২২৪ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। গ্রেড-২ ক্লাশ: সেন্টার স্কুল সংখ্যা-৩টি, মাতৃভাষা ভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে মাতৃভাষায় নিদের্শনা দেওয়া হয় এবং পরে জাতীয় ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হয়। এখানে মোট ৩৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। স্কুলের শিক্ষিকরা গ্রামে বাল্য বিবাহ রোধসহ বিভিন্ন আত্ম-সামাজিক উন্নয়ন মূলক কাজে সহায়তা করছেন।

তিনি আরও জানান, পাড়ায় পাড়ায় উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গ্রামবাসীর সকল মায়েদের স্বাস্থ্য সচেতনতা, সম্মত পায়খানা ব্যবহার, শিশুদের ভিটামিন টেবলেট ও নিয়মিত কৃমিনাশক টেবলেট খাওয়ানো, গর্ভবতী মহিলাদের নিয়মিত আয়রণ টেবলেট খাওয়ার পরামর্শসহ আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। ফলে গ্রামাঞ্চলে মায়েদের ও শিশুদের রক্তস্বল্পতার হার কমে গেছে। তাই দুর্গম প্রত্যন্ত মানুষের শিক্ষাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা চিন্তা করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য তিনি সেভ দি চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল সহযোগিতায় খাগড়াছড়ির স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং কল্যাণ সমিতি কর্মকর্তাদের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করেন।

জাবারাং কল্যান সমিতির শিক্ষা প্রোগামের প্রকল্প সমন্বয়ক বিনোদন ত্রিপুরা বলেন, এ মাসের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। খাগড়াছড়ির দিঘীনালা, মহালছড়ি, খাগড়াছড়ি সদর ও পানছড়ি উপজেলার এ কার্যক্রম চলছে। তবে এ প্রকল্পের মেয়াদ দিঘীনালা, মহালছড়ি, খাগড়াছড়ি সদরসহ তিন উপজেলার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও পানছড়ি উপজেলার জন্য মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না। কারণ দাতা সংস্থা আর্থিক সহায়তা না করলে জাবারাং-এর পক্ষ থেকে এসব বিদ্যালয় চালানো সম্ভব নয়।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly