পানছড়িতে পানির সংকট তীব্র

পানছড়ি প্রতিনিধি,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

pan-1,26.4.14hillbd24.com

শুস্ক মৌসুমের প্রচন্ড খরার কারনে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে খাবার পানি সংকট অন্যদিকে পানির অভাবে কৃষকরা ধান ক্ষেতে ঠিকমত সেচ দিতে পারছে না।

উপজেলার দুর্গম এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার চেংগী ইউনিয়নের শাম্বুকরায় পাড়া, তক্কীরায় পাড়া, পুস্তরায় পাড়া,দুর্গমুনি পাড়া,শনখোলা পাড়া, ভারতবর্ষ পাড়া, রুপসেন পাড়া, হারুবিল এলাকার মানুষদেরকে প্রতিদিন পানির জন্য যুদ্ধ করতে হচ্ছে। ছড়া, ঝর্ণা, কুয়ায় পানি  না থাকায় এক কলসি পানির জন্য ভোর থেকে প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে। দীর্ঘ লম্বা লাইনে দাড়িঁয়ে থেকেও পানি না পেয়ে অনেকে খালি কলসি নিয়ে বাড়ী ফিরতে হচ্ছে। অপরিকল্পিভাবে গাছ-বাশ কাটা, জুম চাষ আর পাহাড় কাটার ফলে এ পরিবেশের বিরুপ প্রভাব পড়ছে বলে  পরিবেশবাদীদের ধারনা।

ইউপি সদস্য আশা চাকমা, খগেন্দ্র ত্রিপুরা বলেন,লোগাং, চেংগী ও পানছড়ি সদর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ী এলাকার পানির সংকট তীব্র হয়ে পড়েছে। ঝর্ণা থেকে পানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে উঠেছে। ঝর্ণায় অাগের মত পানি পাওয়া যায় না।

একদিকে উপজেলার পানির সংকট অন্যদিকে প্রচন্ড তাপদাহের পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিংসহ ত্রিমুখী সমস্যায় সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন রোগব্যাধি। প্রতিনিয়তই হাসপাতালমুখী হচ্ছে নবজাতক থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরাও। ডায়েরিয়া, বমি, মাথা ব্যাথা, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো রোগীর সংখ্যা পানছড়িতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে । পানছড়ি থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দিন বলেন, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়েরিয়া রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।

কৃষক নারদ মুনি চাকমা, প্রলাত মুনি চাকমা ও প্রতিপদ চাকমা বলেন প্রচন্ড খরায় চেংগী নদী আজ মৃতপ্রায়। পানি না থাকায় কৃষকরা ঠিকমতো ধান ক্ষেতে পানি দিতে পারছে না। পানির জন্য তাই সবাই মিলে চেংগী নদীতে বালুর বাঁধ দিচ্ছি।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মানেক মিয়া বলেন পানির অভাবে কৃষক ঠিকমতো সেচ দিতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে এ বছর  ভাল ফলন আশা করা যাচ্ছ না। কৃষকদের সমস্ত পরিশ্রম বৃথা হয়ে যাবে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের মেকানিকেল বাইমং মার্মা বলেন শুস্ক মৌসুমে দুর্গম পাহাড়ী এলাকা খাবার সংকট তীব্র সংকট দেখা দেয়। পাহাড়ী এলাকায় পাথরের কারনে ঠিকমতো নলকুপ বসানোো সম্ভব হয় না। তাই ঝর্ণা, ছড়া, কুয়ার পানিই একমাত্র ভরসা।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly