নিরাপদ ও স্থায়ীত্বশীল পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নিশ্চিতের লক্ষ্য গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভা

স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

3hillbd24.com

রাঙামাটির জেলার সুবিধা বঞ্চিত ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীদের মাঝে নিরাপদ ও স্থায়ীত্বশীল পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার বিষয়ে বুধবার(২৫ ডিসেম্বর) বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ-এর সহযোগীতায় কর্মরত গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়। এছাড়া গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে প্রকল্প এলাকা ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময় এবং প্রকল্প পরিদর্শন করা হয়।

শহরের বিজন সরনিস্থ এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ রাঙামাটি কার্যালয়ে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা প্রোগেসিভের উদ্যোগে এবং এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ-এর সহযোগীতায় মতবিনিময় সভায় রাঙামাটির স্যানিটেশন অবস্থার পরিস্থিতি, নিরাপদ পানি ব্যবহার ও প্রকল্প এলাকার কার্যক্রম সম্পর্কে ধারনা দেন এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ-এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইনচার্জ মকছেদুর রহমান। এসময় প্রোগেসিভের নির্বাহী পরিচালক সূচরিতা চাকমা। পরে মুক্ত আলোচনা করা হয়।

2hillbd24.com

এদিকে মুক্ত আলোচনা শেষে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সহায়তায় এ্যানহেন্সিং গর্ভনেন্স এ্যান্ড ক্যাপাসিটি অব সার্ভিস প্রোভাইপার্স এ্যান্ড সিভিল সোসাইটি ইন ওয়াটার সাপ্লাই এ্যান্ড স্যানিটেশন নামক প্রকল্প এলাকা নানিয়ারচর উপজেলা ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, পাড়া উন্নয়ন কমিটি(ভিডিসি) ও সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময় সভা এবং প্রকল্প পরিদর্শন নিয়ে যাওয়া হয় অংশ গ্রহনকারী গণমাধ্যম কর্মীদের। ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় ইউনিয়নের প্রকল্পের বর্তমান কার্যক্রম ও ইউয়িনের স্যানিটেশন পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অমর জীবন চাকমা। এসময় এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ-এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইনচার্জ মকছেদুর রহমান ও প্রোগেসিভ-এর প্রধান সূচরিতা চাকমাসহ এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে প্রকল্প এলাকা রামহরি পাড়াস্থ স্থাপিত বৃষ্টির পানি ধারন করা পানি প্রযুক্তি(রেইন ওয়াটার হারবেস্টিং সিস্টেম) পরিদর্শন করেন ও সুবিধাভোগীদের সাথে আলাপ করেন।

আলোচনা সভায় এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ-এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইনচার্জ মকছেদুর রহমান তার মূল প্রবন্ধে বলেন,নাননিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ৮৩৭ পরিবারের নিরাপদ পানি প্রচুর অভাব রয়েছে। তাদের এক মাত্র ভরসা ঝিরি/ঝরনা অথবা বৃষ্টির পানি। ফলে পানির জন্য পড়ে যায় হাহাকার। অন্যদিকে এলাকায় নলকুপ স্থাপন করাও সম্ভব নয়। তাই বর্ষা মৌসুমের ৬ মাসের বৃষ্টির পানি প্রযুক্তির মাধ্যমে ধরে রাখার জন্য এই প্রকল্পের আওতায় ঘিলাছড়ি ইউনিয়নে নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য ১০টি রেইন ওয়াটার সিস্টেম নির্মান করা হয়েছে। বর্তমানেরেইন ওয়াটার সিস্টেম নির্মানের ফলে ২০ থেকে ৪০ পরিবার নিরাপদ পানির সুবিধার সুফল ভোগ করছেন।

1hillbd24.com

তিনি বলেন, এই ইউনিয়নে স্বাস্থ্য সম্মত ব্যবহার খুবই কম এমন কি দূর্গম এলাকায় আরসিসি রিং স্লাব বহন করা সম্ভব নয়। এমনকি বহনের সময় স্লাব নষ্ট হয়। তাই এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চলমান প্রকল্প থেকে সহজে বহন করা যায় এ ধরনের ৫০টি সেট প্লাস্টিক রিং স্লাব হত দরিদ্রদের মাঝে বিতরন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে বর্তমানে প্রায় একশ পরিবার স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে পারছে। এছাড়া জনগোষ্ঠীদের সুশাসন নিশ্চিতের লক্ষে ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ প্রথম বারের মত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনার আয়োজন করেছে। তাছাড়া ওয়াটসান সেবার প্রসার ঘটানো জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম উন্নয়ন কমিটি ওয়ার্ড(ওয়াটসান কমিটি) এবং ২টি করে হাইজিন গ্রুপ গঠন করে দেয়া হয়েছে।

এলাকার সুবিধা বঞ্চিত ও হত দরিদ্রদের ওয়াটসন অধিকার নিশ্চিত করতে সুশাসন ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে স্থানীয় সেবা প্রদানকারী ও স্থানীয় সরকার সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন ও এ লক্ষে স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকাকে আরও কার্যকারী করতেই উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় এ্যাডভোকেসি সভার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছেন।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly