নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতিকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Rangamati Maphillbd24.comরাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট আমতলীস্থ মনখোলামুখ এলাকা থেকে বুড়িঘাট মন্দির কমিটির সভাপতি ও পূজা উদযাপন কমিটির বুড়িঘাট শাখার সভাপতি ব্যবসায়ী বাবুল দে(৬০) এর মহদেহ বৃহস্পতিবার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত দশটার দিকে এক দল দুর্বৃত্ত কথা আছে বলে বুড়িঘাট মন্দির কমিটির সভাপতি বাবুল দে ও তার অপর দুই সঙ্গীয় উত্তম তালুকদার ও মৃদুল দে-কে ডেকে নিয়ে অজ্ঞাত নিয়ে যায়। দুর্বৃত্তরা ওই দিন রাতের দিকে উত্তম তালুকদার এবং মৃদুলকে ছেড়ে দিলেও বাবুল দে তাদের হেফাজতে রাখে। পরে উত্তম ও মৃদুল দুর্বৃত্তদের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়া পর তারা স্থানীয় বুড়িঘাট সেনা জোনকে খবরটি জানায়। পরে সেনাবাহিনী এলাকায় তল্লাসি চালায় এবং বৃহস্পতিবার সকালের দিকে আমতলিস্থ মনখোলামুখ এলাকায় বাবুল দে-এর মৃতদেহ পাওয়া যায়।

পুলিশকে খবর দেয়ার পর পুলিশ পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তদের ধার্য্যকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতির কারনে বাবুলকে দুর্বৃত্তরা গলায় গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে নিমর্মভাবে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনো জানা যায়নি। বাবুল দে স্থায়ীভাবে বুড়িঘাট বাজারে বসবাস করলেও তার আদিনিবাস বাড়ী চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া উপজেলায়।

অন্যদিকে এ ঘটনায় দুপরের দিকে পুজা উদযাপন পরিষদ ও সনাতন যুব পরিষদ জেলা শাখার উদ্যোগে রিজার্ভ বাজারে বিক্ষোভ-মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। রিজার্ভ বাজার চৌমহনী এলাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পূজা উদযাপন কমিটির জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক পঞ্চানন ভট্টাচার্য্য। এতে অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বৌদ্ধ, হিন্দু খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিজয় রতন দে, সনাতন যুব পরিষদের জেলা শাখার জগন্নাথ ভদ্র, সুধীর দাস। এর আগে একটি বিক্ষোভ-মিছিল প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে রিজার্ভ বাজারস্থ চৌমহনী চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তারা ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের অল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে।

অপরদিকে পার্বত্য যুব ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাঃ শাহজাহানের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছে বাবুল দে চাঁদা দিতে বনিবনা না হওয়ায় তাকে শারীরিক নির্যাতন ও শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে। বিবৃতিতে ঘটনার সাথে জড়িতদের ২৪ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের জোর দাবী জানানো হয়েছে। অন্যথায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালীদের সাথে নিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন,বাবুল দে-কে দুর্বৃত্তরা গলায় গামছায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশ রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদেন্তর পর নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িতের গ্রেফতারের চেষ্টা চলচ্ছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly