নানিয়ারচরে বগাছড়িতে সহিংস ঘটনায় পৃথক ছয় মামলা,ভাইস চেয়ারম্যােনর উপর হামলা ঘটনায় গ্রেফতার ২

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

14
রাঙামাটির নানিয়ারচরের বগাছড়িতে আনারস বাগান কেটে দেয়ার জের ধরে তিনটি পাহাড়ী গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পাহাড়ী-বাঙ্গালীর পক্ষ থেকে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে নানিয়ারচর থানায় দুটি ও জেলা আদালতে চারটি পৃথক মামলা করা হয়েছে।

এদিকে, নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রণ বিকাশ চাকমার উপর হামলার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে।

উল্লেখ্য, নানিয়ারচরে বুড়িঘাট ইউনিয়নের ১৪ মাইলস্থ বগাছড়ির সুরিদাশ পাড়া এলাকায় আনারস বাগান ও সেগুন গাছের চারা কেটে দেয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৬ ডিসেম্বর সুরিদাস পাড়া, নবীন পাড়া ও বগাছড়ির পাহাড়ী গ্রামে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে তিনটি গ্রামের ৫১ টি বসতঘর ও দোকান আগুনে পুড়ে যায়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সাইফ উদ্দীন আহম্মদকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি সরকারী তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। এছাড়া স্থানীয়ভাবে নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে প্রধান করে ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

জানা গেছে, গত ১৫ ডিসেম্বর রাতে নানিয়ারচরে বগাছড়ির তরুণী কার্বারিপাড়ায় বাঙালিদের আনারস ও সেগুন বাগান ধ্বংসের ঘটনায় বাদী হয়ে নানিয়ারচর থানায় মামলা (নং-২,তারিখ:২৫/১২/২০১৪) করেন বগাছড়ির বাসিন্দা গফুর শেখের ছেলে মো. মোজাফ্ফর আলী। এ মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ দু’শতাধিক লোককে আসামি করা হয়। নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুর রশিদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন।

অপরদিকে, ১৬ ডিসেম্বর সকালে বগাছড়ির ১৪ মাইল নামক এলাকায় সুরিদাশ পাড়া, নবীন তালুকদার পাড়া ও বগাছড়ি পাড়ায় পাহাড়িদের বসতিতে আগুন দেয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থরা রাঙামাটি জেলা ও যুগ্মজজ আদালতে পৃথক চারটি মামলা দায়ের করেছেন। একটি মামলার বাদী বুড়িঘাট ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার আনন্দ চাকমা জানান, তার দোকান ও বসতবাড়ী পুড়িয়ে দেয়ার দায়ে গত ২৭ ডিসেম্বর ৫জনকে আসামি করে আদালতে একটি মামলা করেছেন। এরপর ২৮, ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর ক্রমান্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চন্দ্র মানিক চাকমার স্ত্রী প্রীতিবালা চাকমা ৭জন, অরুণ বিকাশ চাকমার স্ত্রী শান্তিরাণী চাকমা ৬জন এবং বিজু কুমার চাকমার ছেলে মঞ্জু চাকমা ৬জন আসামির নাম উল্লেখ করে পৃথক আরও তিনটি মামলা আদালতে দায়ের করেছেন।

এছাড়া ২৯ ডিসেম্বর বগাছড়িতে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যানের গাড়িতে হামলা ও উপজিলা ভাইস চেয়ারম্যান রণ বিকাশ চাকমার উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা (নং-৩,তারিখ:২৯/১২/২০১৪) দায়ের হয় রাঙামাটির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। এতে মামলার বাদী হন নানিয়ারচর থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল আউয়াল। এ মামলায় ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় পুলিশ মো. মুন্না ও মো. হাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। তাদের বুধবার সকালে রাঙামাটির আদালতে তোলা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। এতে আদালত দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এসব মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রশিদ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদের পক্ষে আদালতে মামলা হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে এ মুহূর্তে ওই মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই।

এদিকে, নানিয়ারচর বাঙালী ভূমি অধিকার অন্দোলন পরিষদের নানিয়ারচর উপজেলায় ডাকা ৭২ ঘন্টা হরতালের দ্বিতীয় দিন বুধবার শান্তিপুর্ণভাবে পালিত হয়েছে। হরতালের সময় পিকেটাররা বগাছড়ির রাস্তা মাথা, ডাক বাংলো এলাকায় পিকেটিং করেছে। হরতাল চলাকলে রাঙামাটি-মহালছড়ি সড়কে কোন যানবাহন চলাচল করেনি।নানিয়ারচরের বগাছড়িতে উদ্ধুদ্ধ সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় সার্বক্ষণিক জোরদার রাখা হয়েছে পুলিশ ও নিরাপত্তবাহিনীর টহল।

ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, নানিয়ারচরে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসন থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ঘটনায় দায়ের করা উভয়পক্ষের মামলা তদন্তাধীন রয়েছে জানান তিনি।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly