নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবি-বিজিপি গুলি বিনিময় সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে

বান্দরবান প্রতিনিধি,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Ban Map

শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ি সীমান্তের ৫২ পিলারের কাছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বিজিপি (বর্ডার গার্ড পুলিশ) মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এতে উভয়ের মধ্যে থেমে থেমে শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো হতাহতের খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উভয়ের মধ্যে গুলি বিনিময়ে সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে।সীমান্তে সর্তক পাহারায় রয়েছে বিজিবি ও সেনাবাহিনী।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ি এলাকার ৫২ নং পিলারের কাছে বিজিবি ও বিজিবি গুলি বিনিময় হয়। বুধবার থেকে নিখোঁজ সুবেদার মিজানুর রহমানের লাশ হস্তান্তরের আশায় ওই জায়গায় অবস্থান করছিল বিজিবি। বিজিবি’র পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বানও জানানো হয় বিজিপিকে। পতাকা বৈঠকের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে উল্টো মিয়ারমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর পাল্টা গুলি ছোড়ে বিজিবিও। থেমে থেমে উভয়ের মধ্যে দেড় ঘন্টা ব্যাপি শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে। এতে এখনো হতাহতের খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয়ের মধ্যে গুলি বিনিময়ে ওই এলাকার কয়েকশ সাধারণ লোক আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে। আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গত বুধবার পাইনছড়ি এলাকার ৫২ নং পিলারের কাছে রুটিন অনুযায়ী সীমান্ত পাহারায় টহল দিচ্ছিল বিজিবি। তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বিজিপি। মিয়ানমারের বিজিপির গুলিতে নিহত হয় সুবেদার মিজানুর রহমান। বাংলাদেশের সীমান্তে বিজিপি সদস্যরা প্রবেশ করে মিজানুর রহমানের লাশ মিয়ানমার সীমান্তে নিয়ে যায়।

নাইক্ষ্যংছড়ি দোছড়ি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ক্যচিমং মার্মা জানান, গত বুধবার বিজিবির দিকে লক্ষ্য করে শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে বিজিপি। ওইদিনের ঘটনায় বিজিপির গুলিতে সুবেদার মিজানুর রহমান নিহত হয়। স্থানীয়রা জানায় শুক্রবার সকালে নিহত সুবেদারের লাশ পাওয়ার আশায় বিজিবি সদস্যরা একটি কফিন নিতেও দেখেছেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাফায়েত মো: শাহেদুল ইসলাম বলেন, সুবেদার মিজানুর রহমানের লাশ হস্তান্তরের জন্য বিজিপিকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়। আহ্বানে সাড়া না দিয়ে বিজিপি গুলি বর্ষণ করেছে বিজিবি’র উপর। এখনো হতাহতের খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সীমান্তের পরিস্থিতি জানতে ঘটনাস্থলের দিকে তিনি রওনা দিয়েছেন বলে জানান।

বান্দরবান বিজিবি সেক্টর কমান্ডার সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, শুক্রবার সকালে উভয় দেশের মধ্যে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিজিপি পতাকা বৈঠকের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে কালক্ষেপন করতে থাকে। পরে পতাকা বৈঠকের পরিবর্তে আমাদের সদস্যরে দিকে বিনা কারণে বিজিপি গুলি বর্ষণ করেছে। গুলাগুলিতে হতাহতের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

বান্দরবান বিজিবি সেক্টর কমান্ডার সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, এই ঘটনায় সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। আমাদের সদস্যরা সর্তক অবস্থায় রয়েছে। সাধারণ লোকজনদের রক্ষায়ও কাজ করছে বিজিবি।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly