নবম জাতীয় সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার আগে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন বিল পাশের দাবি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি

স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম

pic-1পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ যথাযথ ও অনতিবিলম্বে সমাধানের স্বার্থে চলতি সংসদ অধিবেশনের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৩ বিল পাশের জন্য সরকারের প্রতি  আহ্বান জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।

গত ১১ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার বিভাগের সহ-সম্পাদক সজীব চাকমার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদশেষ পর্যায়ে এসে গেলেও ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এখনো পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১-এর সংশোধনার্থে আনীত বিলের উপর মতামত প্রদানে রহস্যজনকভাবে ঝুলিয়ে রেখেছে। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৩ বিল জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া বিষয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, নির্বাচনী অঙ্গীকার থাকা সত্ত্বেও সরকারের মেয়াদকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে আশানুরুপ অগ্রগতি না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ পুঞ্জিভূত হয়েছে। সরকারের শেষ মেয়াদে এসেও ভূমি কমিশন আইন যথাযথভাবে সংশোধনের মাধ্যমে সেই ক্ষোভ ও অসন্তোষ কিছুটা হলেও লাঘবের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভূমি কমিশন আইন সংশোধনে সরকারের পিছিয়ে যাওয়ার ফলে সেই সম্ভাবনাও নিশ্চিহ্ন হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি কমিশন আইন সংশোধনের কাজ ঝুলিয়ে রাখায়  একদিকে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির কাজ প্রলম্বিত হবে। অন্যদিকে ভূমি বিরোধ জটিল আকার ধারণ করছে। ফলে ভূমিকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত ও সমস্যা অধিকতর ঘনীভূত হবে এবং সরকারের প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি-বাঙালি অধিবাসীদের অনাস্থা ও অবিশ্বাস  বৃদ্ধি পাবে।

বিবৃতিতে  অভিযোগ করা হয়, সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের নীতি গ্রহণ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারেরই বরখেলাপ এবং চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের চরম অসদিচ্ছারই প্রতিফলন। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই ভূমি কমিশন আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং জাতীয় সংসদ থেকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণের পর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সাথে সাজুস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এ সংক্রান্ত বিলের উপর শুনানী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু যারা ভূমি কমিশনসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিরোধিতাকারীরা ও  ভূঁইফোড় সাম্প্রদায়িক সংগঠন পার্বত্য সমঅধিকার আন্দোলন, পার্বত্য যুব ফ্রন্ট, পার্বত্য নাগরিক পরিষদ, বাঙালি ছাত্র পরিষদ উদ্দেশ্য-প্রণোদিতভাবে নানা বিভ্রান্তী ছড়িয়ে যাচ্ছে। সেই সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আমন্ত্রণ জানানো নিঃসন্দেহে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সদিচ্ছা-প্রসূত নয় বলে বলা যেতে পারে। বিবৃতিতে সরকারের এ পশ্চাদাপসারণের ফলে সারাদেশের আদিবাসী জাতিসমূহের প্রতি সরকারের নেতিবাচক ইঙ্গিতও বহন করে। যা নিঃসন্দেহে আওয়ামীলীগের জন্য কখনোই মঙ্গলজনক হতে পারে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে ২০১৩ তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৩’ বিল মন্ত্রীসভায় উত্থাপিত হয়। কারই আলোকে গত ৩ জুন ২০১৩ অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বৈঠকে উক্ত বিল অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে গত ১৬ জুন ২০১৩ উক্ত সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এবং মতামতের জন্য বিলটি ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। যা বর্তমানে সংসদের পাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর

Print Friendly