দীঘিনালা বন বিহারে দুই দিনব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন

দীঘিনালা প্রতিনিধি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

bn

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বন বিহারে ১৬ তম কঠিন চীবর দানোৎসব শুক্রবার যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে।

আগত বৌদ্ধ পূর্ন্যার্থীদের উদ্দেশ্য দীঘিনালা বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির তার স্বধর্ম দেশনায় বলেছেন, ভগবান গৌতম বুদ্ধের নির্দেশনা মোতাবেক নির্বাণ লাভ করতে হলে বৌদ্ধ ধর্মালম্বী সবাইকে ইহকালের সকল প্রকার লোভ লালসা পরিহার করে ত্যাগের মহিমায় ধর্মপরায়ন হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ত্যাগের মহিমা ও অহিংস মননশীলতা মানুষকে পাপমুক্ত রাখে এবং শান্তি ও সম্প্রীতি উন্নয়নে প্রেরনা যোগায়।

দীঘিনালা বন বিহার মাঠে আয়োজিত কঠিন চীবর দানা অনুষ্ঠানে আগত বৌদ্ধ পূর্ন্যার্থীদের উদ্দেশ্য স্বধর্ম দেশনা দেন দীঘিনালা বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির। অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ড থেকে আগত ধর্মীয় দূত ফেরা উইসন পেয়াখুন মহাস্থবির ও ফেরা আনন অক্ষপং মহাস্থবির বৌদ্ধ ধর্মের তাৎপর্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কয়েক হাজার ধর্মপ্রান লোকজনের সমাগম ঘটে।

এদিকে সকাল থেকেই জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ধর্মপ্রান লোকজন শোভাযাত্রাসহকারে অনুষ্ঠানস্থলে আসতে থাকেন। এসময় বৌদ্ধ কি জয় ধর্ম কি জয় এধরনের নানা ধর্মীয় শ্লোগানে অনুষ্ঠানস্থল মুখরিত হয়ে উঠে। আগতরা নিজেকে পাপমুক্ত করে পুণ্যের আশায় চীবরদান, অষ্টপস্কিারদান ও সংঘদানসহ পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানে জাতিধর্ম নির্বিশেষে সব ধর্মালম্বী মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়। ঐতিহ্যবাহী এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে বন বিহার প্রাঙ্গন পরিনত হয় মিলন মেলায়। ক্ষনিকের জন্য হলেও এই উৎসব বয়ে এনেছিল পারষ্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। পাহাড়ে এ প্রয়াস দীর্ঘস্থায়ী হোক এমন প্রত্যাশায় বুক বেধে বাড়ি ফিরেছেন সবাই। সন্ধ্যায় হাজার বাতি প্রজ্জলন ও ফানুস উত্তোলনের মাধ্যমে কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপন উপলক্ষে দীঘিনালা বন বিহার কতৃক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কর্মসূচীর সমাপনী ঘটে।

প্রয়াত সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শ্রীমৎ নন্দাপাল মহাথেরো তার ধর্ম দেশনায় আরও বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ নিঃসন্দেহে পুণ্যবান। আর পুণ্যবান বলেই পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তের মত মহামানব এ অঞ্চলে জন্ম গ্রহন করেছিলেন।

তিনি বলেন, চাঁদের আলোয় আধার পৃথিবী যেমন আলোকিত হয় তেমনি পাপি জগতে আধার মনকে আলোকিত করতে হলে একাচিত্তে ধর্মীয় নিয়মনীতি অনুসরন করতে হবে। তা না হলে ইহকাল পরকাল দুকালই হারাতে হবে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly