দীঘিনালায় যৌতুক না দেয়ায় গৃহবধূকে ধর্ষন করে ভিডিওচিত্র ধারণ,আটক ৩

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Picture7

খাগড়াছড়ি দীঘিনালা উপজেলায় বেলছড়ি গ্রামে এক গৃহবধু ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা প্রকাশ না করতে এসময় দুর্বৃত্তরা মুঠোফোনে ভিডিওচিত্র ধারন করে।

এদিকে, ১০ ফেব্রুয়ারী উপজেলার ডলুছড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটলেও দুর্বৃত্তরা ঘটনা যাতে ফাঁস না হয় সে  ননদ ও শাশুরী মিলে গৃহ বধুকে অজ্ঞাত স্থানে আটক  করে রাখে। তবে ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর বুধবার সন্ধ্যায় ধর্ষকদের আটক করেছে দীঘিনালা থানার পুলিশ।

জানা যায়, উপজেলার বেলছড়ি গ্রামের ২৮ বছরের এক গৃহবধু ১০ফেব্রুয়ার উপজেলার ডলুছড়ি এলাকায় লাকড়ি আনতে গেলে স্বপন মিয়া(২২), মঞ্জুরুল আলম(১৮) এবং শুক্কুর আলীও(২৩) সেখানে যায়। পরে স্বপন আলী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষনের চেষ্টা করে। পরে পেঁপসির পানীয় বোতল থেকে নেশা জাতীয় কিছু পানি জোর পূর্বক খাওয়ানোর পরে তিনজনে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এসময় তারা একে একে ধর্ষনের ভিডিওচিত্র ধারন করে।

এদিকে ঘটনা প্রকাশ না করতে ননদ জো¯œা বেগম তার স্বামী ওয়াহাব আলী এবং হোসনে আরা যোগসাজশে জোস্না বেগমকে ঘরে আটকে রাখে। আটক রাখার সংবাদ পেয়ে ভাই নুরুল আমিন উদ্ধার করে পুলিশকে জানানো হয়।  এতে পুলিশ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্বপন মিঞা, মঞ্জুরুল আলম এবং শুক্কুর আলীকে আটক করে।

এব্যাপারে পুলিশে হাতে আটক মঞ্জুরুল আলম এবং শুক্কুর আলী জানায়, ছেলের বোন  জোস্না বেগম এবং হোসনে আরার পরামর্শে স্বপন মিয়া গৃহবধূকে ধর্ষনের জন্য ত্রিশ হাজার টাকায় চুক্তিতে ভাড়া করে। এর মধ্যে পনের হাজার টাকা নগদ দেয়। পরে তারা ভিডিওচিত্র ধারন করে পালাক্রমে ধর্ষন গৃহবধূকে ধর্ষন করে। হোসনে আরা, জোস্না বেগম এবং তার স্বামী ওয়াহাব আলী যোগসাজশে  ভাড়া করেছে বলে আটককৃতরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

এ ব্যাপারে ভাই নুরুল আমিন জানান, আবদুর রাজ্জাক তার ভগ্নীপতি। সে দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকেই তার উপর নির্যাতন শুরু করে। পরে তামাক চাষ করার জন্য গত বছর একলক্ষ টাকা চেয়েছিল, না দেয়ার পর থেকেই নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। গত ১০ ফেব্রুয়ারী একটি অপবাদ দিয়ে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য বখাটে ভাড়া করে। ঘটনার পর থেকেই তার বোন নিখোঁজ ছিল। পরে সংবাদ পেয়ে ননদ জোস্না বেগমের ঘর থেকে বুধবার গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়।

দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাহাদাৎ হোসেন টিটো ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঘটনার শিকার গৃহবধূ বাদী হয়ে স্বামী, ননদসহ আট জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। এর মধ্যে ধর্ষনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন জনকে আটক করা হয়েছে।  তাদের বিরুদ্ধে নারী, শিশু নির্যাতন এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly