দীঘিনালায় মৌ চাষীদের ভাগ্য বদলের চেষ্টা

দীঘিনালা প্রতিনিধি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

dighinala (khagrachari) pic-23-11-2013_DMEABS

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মৌ চাষের মাধ্যমে ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন বৈদ্যপাড়ার ১৭ টি আদিবাসী পরিবার। একমাত্র মৌ চাষের কারনেই উপজেলার এই আদিবাসী পল্লী এখন মধু গ্রামে পরিচিত। মৌচাষে খরচ কম লাভ বেশী। তাই এই গ্রামের মৌ চাষীরা সফল হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামেও শুরু হয়েছে মৌচাষ।

জানা যায়, স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং কল্যান সমিতির সহযোগিতায় মৌ চাষের প্রশিক্ষন গ্রহন করেন স্বামী-স্ত্রী রিটেন চাকমা ও আনন্দ প্রভা চাকমা। প্রশিক্ষনের লাভের পর মৌ চাষের জন্য তাদের বাক্স ও মুখোশসহ প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র দিয়ে সহযোগিতা করে জাবারাং কল্যান সমিতি। এরপর প্রশিক্ষনের পর তারা বৈদ্যপাড়ায় প্রথম মৌ চাষ শুরু করেন। তারা মৌ চাষে দ্রুত সফল হন এবং এলাকায় মৌ চাষী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।  এখন রিটেন চাকমা বৈদ্যপাড়ায় অন্য মৌ চাষীদের প্রশিক্ষক ও পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন।

রিটেন চাকমা জানান, প্রথম একটি বাক্সে মৌমাছি দিয়ে মৌ চাষ শুরু করি। শুরুতে কোন খরচ করতে হয়না। তবে বর্ষাকালে একনাগারে একাধিক দিন বৃষ্টি হলে মৌমাছি বাহিরে যেতে পারেনা। তখন খাদ্য সংকট দুর করতে সামান্য চিনি মিশানো পানি দিতে হয়। দুই সপ্তাহ পর পর একটি বাক্স থেকে প্রায় ৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। তবে আষাঢ়, শ্রাবন ও ভাদ্র এ তিন মাস মধূ কম পাওয়া যায়। বাকি ৯ মাস মধূ পাওয়া যায় একই হারে। প্রতি কেজি মধূ স্থানীয়ভাবে ৭ থেকে ৮ শ’ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। তিনি আরও জানান, মৌ চাষে লাভ বেশী খরচ কম। একমাত্র পরিচর্চা ছাড়া কোন খরচ নেই। তাই দিন দিন বাড়ছে মৌ চাষীর সংখ্যা। বর্তমানে বৈদ্যপাড়ায় যে ১৭ টি পরিবার মৌ চাষ করছে তারা সবাই তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষন নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

রিটেন চাকমার স্ত্রী আনন্দ প্রভা চাকমা জানান, বৈদ্যপাড়ার ১৭ পরিবার মৌ চাষী প্রতি মাসে থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ কেজি মধূ উৎপাদন করে আসছে। তবে উৎপাদিত মধু বাজারজাত করার সুনিদিষ্ট কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মধু কিক্রি করতে অনেক সময় লাগে এবং অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না বলে জানান তিনি। একই গ্রামের মৌ চাষী ক্যামেলি চাকমা ও সাধনা চাকমা জানান, আমরা রিটেন চাকমার মৌ চাষ দেখে উদ্ভুদ্ধ হয়ে এবং তার কাছ থেকে প্রশিক্ষন ও পরামর্শ নিয়ে মৌ চাষ করেছি। এই গ্রামে প্রতি মাসে যে হারে মধু উৎপাদন হচ্ছে তা যদি বাজারজাতের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় তাহলে মৌ চাষের মাধ্যমে তাদের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন সফল হবে বলে জানান বৈদ্যপাড়ার মৎস্য সমবায় সমিতির সাধারন সম্পাদক রাহুল চাকমা।

স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং কল্যান সমিতির দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষন কর্মকর্তা গোপীনাথ ত্রিপুরা জানান, বৈদ্যপাড়ার মৌ চাষীদের সাফলতা দেখে উপজেলার অন্যান্য এলাকার লোকজনও মৌ চাষের প্রতি আগ্রহী হয়েছেন। মৌ চাষে বৈদ্যপাড়া উপজেলার মডেল বলে জানান তিনি।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly