ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রানসামগ্রী বিতরণ    


দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতি উত্তরে উন্নতি দক্ষিণে অবনতি     

দীঘিনালা প্রতিনিধি,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি উত্তরে উন্নতি দক্ষিণে অবনতি হয়েছে। মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবার দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। উত্তরের বোয়ালখালী ও কবাখালী ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণের মেরুং ইউনিয়নে বেশ কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। শত শত পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

৭০ টি পরিবার মেরুং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। উত্তরে বন্যার পানি কিছুটা কমে যাওয়ায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ চালু হলেও গত দু’দিন ধরে লংগদু উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। শুক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ইঞ্জিন চালিত নৌকাযোগে মেরুং ইউনিয়নের বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে মনোবল না হারিয়ে দৃঢ়তার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পরামর্শ দেন। এসময় মেরুং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রিতদের মাঝে তিনি ত্রানসামগ্রী বিতরণ করেন। এদিকে শুক্রবার বিকালে ইঞ্জিন চালিত নৌকাযোগে মেরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকা সমূহে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে গভীর ও অগভীর নলকূপগুলো তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন।

বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি না হলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানিবাহী রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিতে পারে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এদিকে বড় মেরুং বেইলী ব্রীজটি তলিয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় কোনো প্রকার নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে লংগদু ও মাইনী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। অপর দিকে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হওয়ায় কবাখালী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্তরা বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন এবং দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কে শুক্রবার সকাল থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ব্যাপক  ক্ষয়ক্ষতির আশংকা প্রকাশ করে মেরুং ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন জানান, বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় এই এলাকার কয়েক হাজার একর রোপা আমনের জমি পলি মাটির নীচে চাপা পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এলাকার মৎস্য চাষীরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। আমন চাষীরাও সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে। এ কারণে আগামী আমন মৌসুমে এলাকায় খাদ্য সংকট সৃষ্টি হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাউদ্দীন জানান, বন্যার পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারনে  আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।

বোয়ালখালী ও কবাখালী ইউনিয়নে বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় রোপা আমনের তেমন একটা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেও  জানান তিনি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অবর্না চাকমা মুঠোফোনে জানান, পরপর দু’বারের বন্যায় উপজেলার ৫ শতাধিক মৎস্যচাষী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৎস্যচাষীরা সহায় সম্বল হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা কোনোভাবেই পুষিয়ে দেয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী মোঃ কাশেম বন্যা উপদ্রুত এলাকা ঘুরে এসে জানান, এবারের বন্যায় উপজেলার মৎস্যচাষী ও আমন চাষীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নে বিদ্যালয়ে একশ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। প্রাথমিক সাহায্য হিসাবে আশ্রিত প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়েছে। তবে  মেরুং ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি। বন্যা পরিস্থিতি কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নে উন্নতি এবং মেরুং ইউনিয়নে অবনতি হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুল জাহিদ পাভেল জানান, বিদ্যালয়ে আশ্রিতদের মাঝে শুক্রবার বিকালে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ত্রানসামগ্রী বিতরণ করেছেন। বন্যাজনিত যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

   –হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly