দীঘিনালায় পাহাড়ী-বাঙ্গালী দুই সংগঠনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি উপেজলা প্রশাসনের

দীঘিনালা প্রতিনিধি,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Khag map

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বিজিবি’র ৫১ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ী-বাঙ্গালী দু’টি সংগঠন পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী ঘোষনা করেছে। এই কর্মসূচীকে ঘিরে যে কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ থেকে বাবুছড়া বাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় মাইকিং করে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি প্রচার করা হয়।

পাহাড়ীদের সংগঠন দীঘিনালা ভূমিরক্ষা কমিটি বিজিবি’র ৫১ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর প্রত্যাহারের দাবীতে এবং নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর হামলা ও মামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বাবুছড়া বাজার থেকে উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কজুড়ে গন মানববন্ধন কর্মসূচী ঘোষনা করে।

অপরদিকে বিজিবি’র সদর দপ্তরে হামলাকারী উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে একই সময় একই এলাকায় বৃহত্তর মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচী ঘোষনা করে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ। এইসব কর্মসূচী পালনের অনুমতি চেয়ে উভয় সংগঠনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে আবেদন করে। পাহাড়ীদের ভূমিরক্ষা কমিটির পক্ষে সাবেক ছাত্রনেতা ধর্মজ্যোতি চাকমা এবং বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের পক্ষে উপজেলা বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের সাধারন সম্পাদক মোঃ রাসেল প্রধান লেবু আবেদনে স্বাক্ষর করেন। একই সময় একই এলাকায় দুটি সংগঠনের কর্মসূচী পালনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নব কমল চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান সুসময় চাকমা ও দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ সাহাদাত হোসেন টিটো জরুরী বৈঠক বসেছেন।

বৈঠকে স্থান ও সময় পরিবর্তন করার জন্য উভয় পক্ষকে অনুরোধ করা হলেও কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি হয়নি বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তাই পাল্টাপাল্টি এই কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশংখায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুল জাহিদ পাভেল জানান, পাহাড়ী-বাঙ্গালী দুটি সংগঠনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার আশংখায় ১৪৪ ধারা জারি করা  হয়।

এদিকে বাবুছড়ায় বিজিবি’র সদর দপ্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিজিবি-গ্রামবাসী সংঘর্ষের ঘটনা তদন্ত করতে বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব মোঃ আলমগীর হোসেন’র নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি। তদন্তকালে তারা বিজিবি ও ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীর সাথে কথা বরেছেন বলে জানা গেছে।

অপরদিকে সিএইচটি কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার বাবুছড়া পরিদর্শনের কথা থাকলেও অনিবার্য কারনে তা পরিবর্তন করে বৃহস্পতিবার কমিশনের কো-চেয়ারপার্সন সুলতানা কামালের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাবুছড়া পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ সাহাদাত হোসেন টিটো জানান, পাহাড়ী-বাঙ্গালী দুই সংগঠনের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে যাতে অপ্রত্যাশিত কোনো ঘটনা না ঘটে সেজন্য ১৪৪ ধারা জারিসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। যে কোন কিছুর বিনিময়ে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন এবং শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস অক্ষুন্ন রাখতে প্রশাসন সক্রিয় দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বাবুছড়ায় বিজিবি’র ৫১ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে গত ১০ জুন বিজিবি-গ্রামবাসী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ৬ বিজিবি সদস্যসহ ১৮ গ্রামবাসী আহত হয়। এই ঘটনায় ২১ টি পাহাড়ী পরিবার বাবুছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly