হঠাৎ করে জেলার বাইরে বাঁশ পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা


দীঘিনালায় নষ্ট হচ্ছে দেড় কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে তিন লাখ বাঁশ

জাহাঙ্গীর আলম রাজু, দীঘিনালা, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

dighinala(khagrachari)- pic- 09-02- 2014hillbd24.com
হঠাৎ করে জেলার বাইরে বাঁশ পরিবহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মাইনী নদীতে নষ্ট হচ্ছে দেড় কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে তিন লাখ বাঁশ। কর্ণফুলি পেপার মিলে কাঁচা মালের চাহিদা পূরনের অজুহাতে জেলা প্রশাসক মাসুদ কমির গত ১৬ জানুয়ারী থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নাড়াইছড়ি বনাঞ্চলের সকল প্রকার বাঁশ জেলার বাইরে পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এই নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে দীঘিনালার মাইনী নদীর প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আটকা পড়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে তিন লাখ বাঁশ। তার মধ্যে তিন লাখ ১৯ হাজার বাঁশের রাজস্ব পরিশোধ করা হয়েছে বলেও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তাই এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে ব্যবসায়ীদের গুনতে হবে দেড় কোটি টাকার লোকসানের হিসাব। অনেক ব্যবসায়ী মূলধন হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে বাঁশ সংগ্রহ ও কর্তন বন্ধ রয়েছে। তাই কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে কয়েক হাজার বাঁশ শ্রমিক ও কাটার। পরিবার পরিজন নিয়ে এসব শ্রমজীবী মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। অনাহার আর অর্ধাহারে কাটছে তাদের কষ্টের জীবন। তাই মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা অবিলম্বে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

স্থানীয় বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীঘিনালায় কর্ণফুলি পেপার মিল (কেপিএম) আওতাভূক্ত কোনো বাঁশকূপ নেই। নাড়াইছড়ি বাঁশকূপটি জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত। নির্ধারিত সরকারী রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে এই বনাঞ্চল থেকে যুগ যুগ ধরে বনজদ্রব্য আহরন করে আসছে স্থানীয় জনসাধারন।

স্থানীয় বাঁশ ব্যবসায়ী সাবেক ইউপি সদস্য মাহাবুব আলম জানান, হঠাৎ করে নিষেধাজ্ঞা জারির কারনে মাইনী নদীতে আটকাপড়া সাড়ে তিন লাখ বাঁশের মধ্যে তিন লাখ ১৯ হাজার বাঁশ জেলার বাইরে পরিবহনের জন্য সরকারী রাজস্ব প্রদান করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার কারনে রাজস্ব প্রদানের পরও আমরা জেলার বাইরে বাঁশ পরিবহন করতে পারছি না। বর্তমানে বাঁশগুলো রোদে পুড়ে নষ্ট হচ্ছে। তাই অবিলম্বে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মাধ্যমে জনসাধারনের জন্য নির্ধারিত নাড়াইছড়ি কূপের বাঁশ জেলার বাইরে পরিবহনের অনুমতি প্রদানের দাবী জানান তিনি।

এ ব্যাপারে নাড়াইছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মাসুদ সরদার জানান, শুধু নাড়াইছড়ি নয় দীঘিনালায় কর্ণফুলি পেপার মিল (কেপিএম)’র আওতাভুক্ত কোনো বাঁশকূপ নেই। নাড়াইছড়ি বাঁশকূপটি জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত। সরকার নির্ধারিত রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে এই বনাঞ্চল হতে স্থানীয় জনসাধারন বাঁশ ও ঝাড়ুফুলসহ যুগ যুগ ধরে নানা প্রকার বনজদ্রব্য জেলার বাইরে পরিবহন করে আসছে বলে জানান তিনি।

খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেছেন, নাড়াইছড়ি বনাঞ্চল হতে সংগ্রহিত বাঁশ জেলার বাইরে পরিবহনের ক্ষেত্রে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে নিরসন করা হবে। খাগড়াছড়িরবাসীর স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে অনৈতিকভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে সরকার ও বন মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অনুসরন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে জানান তিনি।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদানা/সিআর.

Print Friendly