তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন সংশোধনের উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি

ডেস্ক রিপোর্ট,বিডিনিজটোয়েন্টিফোর ডটকম

pcjss luguhillbd24.com

তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন সংশোধনের উদ্যোগ বাতিল করে পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী অবিলম্বে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন আয়োাজনের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি। সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন বিধিমালা ও স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা বিধিমালা প্রণয়নের জন্যও দাবী জানানো হয়েছে।

রোববার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়,পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করে অন্তর্বতীকালীন তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের আকার ৫ সদস্য থেকে ১১ সদস্যে বাড়ানোর উদ্দেশ্যে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি,বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ২০১৪ নামের তিনটি বিল গত ২৬ জুন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন বিধিমালা ও ভোটার তালিকা বিধিমালা প্রণয়নে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।

যে দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় সেই দল দলীয় লোকদের পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে মনোনয়ন দিয়ে অন্তর্বর্তী জেলা পরিষদসমূহ অগণতান্ত্রিকভাবে বছরের পর বছর পরিচালনা করে আসছে। ফলে এসব অর্ন্তবর্তীকালীন পরিষদের জনগণের কাছে কোন দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা নেই। এসব পরিষদ দলীয় লোকজনদের পুনর্বাসন কেন্দ্র ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচনকে অব্যাহতভাবে পাশ কাটানো এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে সুকৌশলে বাধাগ্রস্ত করার হীন উদ্দেশ্যে সরকার তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করে সংসদে উত্থাপন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। শক্তিশালী পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন, পরিষদে সকল জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ, সর্বোপরি জনমুখী, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত পার্বত্য জেলা পরিষদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নির্বাচিত পার্বত্য জেলা পরিষদের কোন বিকল্প নেই।

মনোনীত সদস্যদের নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী পার্বত্য জেলা পরিষদের আকার যতই বাড়ানো হোক না কেন তাতে করে কখনোই শক্তিশালী, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক পার্বত্য জেলা পরিষদ গড়ে উঠতে পারে না বা সকল জাতিগোষ্ঠীর প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হতে পারে না। অন্তর্বর্তী পার্বত্য জেলা পরিষদের আকার বাড়ানো হলে সুবিধাবাদী ও কায়েমী স্বার্থান্বেষীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া কিছুই সাধিত হবে না। পক্ষান্তরে এর ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আরেক নতুন সমস্যার উদ্ভব হবে এবং পার্বত্যবাসীদের প্রতি বঞ্চনা ও অবহেলা অধিকতর পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সরকার তার নির্বাচনী ইসতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও চুক্তি বাস্তবায়নের কোন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৩ বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করলেও সংসদীয় কমিটিতে ঝুলিয়ে রেখে দেয়। বরং সরকার উল্টো পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি পরিপন্থীভাবে ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন লঙ্ঘন করে অন্তর্বতীকালীন তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের আকার বাড়ানোর অগণতান্ত্রিক ও চুক্তি বিরোধী উদ্যোগ নিয়েছে।

যা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কালক্ষেপণ ও অসদিচ্ছারই বহিপ্রকাশ। তাই অন্তর্বর্তী পার্বত্য জেলা পরিষদের আকার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের সংশোধনী উদ্যোগে যে কোন অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির জন্য সরকারই দায়ী থাকবে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly