ঢাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ও কন্যা শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

170

রোববার ঢাকায় ‘প্রান্তিকীকরণ এবং বিচারহীনতা: পার্বত্য চট্টগ্রামে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সমন্বয়কারী হানা শামস আহমেদের পাঠানো প্রেস বার্তায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন ও বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক- এর উদ্যোগে রাজধানীর ছায়ানট ভবনের রমেশচন্দ্র হলে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের কো-চেয়ার সুলতানা কামাল। বক্তব্যে রাখেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রেসিডেন্ট আয়েশা খানম, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, আন্তর্জাতিক পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সদস্য ব্যরিস্টার সারা হোসেন, ও খুশী কবির।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের উপদেষ্টা ড. মেঘনা গুহঠাকুরতার সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে এ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা, নারীনেত্রী শেফালিকা ত্রিপুরা, রীতা চাকমা, ভাগ্যলতা তংচংগ্যা,সুলেখা ম্রং প্রমুখসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতল থেকে নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহন করেন এবং তারা স্ব-স্ব মতামত তুলে ধরেন।

205

বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং তার বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্র আমাদের সবসময় সংখ্যালঘু বানিয়ে রাখতে চায়। আমরা কল্পনা চাকমার বিচার আজও পাইনি। এ অপহরণের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সরকার এখনও চাকরিতে বহাল রেখেছে। বর্তমানে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনে সংশোধনী না আনার জন্যও বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে শোনা যাচেছ। পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন শিল্প বিকাশের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীকে উপেক্ষা করে সেনা সংস্থাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ভিশন ২০২১-এ আদিবাসী ইস্যুটিকে অর্ন্তভুক্তি করতে হবে। আর আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা কেউ একা নই। এজন্য সংখ্যাগুরু ও আদিবাসীদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে ঐক্য গড়তে হবে।

কমিশনের সদস্য ব্যরিস্টার সারা হোসেন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ভুক্তভোগীরা দুভাবে নিপীড়নের শিকার হন। প্রথমতঃ ভুক্তভোগীর আত্মীয়-স্বজনরা হুমকির সম্মুখীন হন। দ্বিতীয়তঃ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নির্লিপ্ততা। এজন্য নারী নির্যাতন মামলাগুলোর জন্য অতিরিক্ত মনযোগ দেয়া দরকার।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, সত্য বলার ফলাফল সব সময় সুখকর হয় না। অনেক সময় সত্য বলা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়। তাই পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন দ্রুত সময়ের মধ্যে করা দরকার।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly