টানা অবরোধে বান্দরবানে পর্যটন শিল্পের ধস

ক্যমুই অং মারমা,বান্দরবান,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Bandarban Nilgiri Pic-2

টানা অবরোধের কারণে বান্দরবানে পর্যটন শিল্পে ধস নেমেছে। পর্যটনের ভরামৌসুমেও পর্যটক শূন্য হযে পড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নীলাভূমি বান্দরবানের পর্যটন স্পটগুলো। শহরের অভ্যন্তরীন রুটগুলোতে স্বাভাবিক যান চলাচল থাকলেও দুরপাল্লার কোন যান চলাচল করছে না। এতে করে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমন না থাকায় হোটেল-মোটেলগুলোও রয়েছে খালী পড়ে। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে শীঘ্রই এ শিল্প ধ্বংস নামার আশঙ্কা করছেন পর্যটন ব্যবসার সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ীরা।

জানা যায়, অক্টোবর থেকে শুরু করে এপ্রিল মাস পর্যন্ত পর্যটকের পদচারনায় মুখরিত হয়ে থাকে বান্দরবান। প্রতিবছর এই মৌসুমে প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে পর্যটন স্পটগুলোতে ঢল নামে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের। কিন্তু নতুন বছরের শুরুতে রাজনৈতিক অচলাবস্থায় টানা অবরোধের কারণে পর্যটন স্পটগুলোতে এখন পর্যটক শুন্য। পর্যটকের ভরামৌসুম আসার সাথে সাথে চিম্বুক, নীলগিরি, নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণ মন্দির, শৈল জলপ্রপাত, রিজুক ঝর্ণা, নাফাকুম ও কিংবদন্তি বগালেকসহ ছোট-বড় অর্ধশত পর্যটন কেন্দ্রগুলো নতুন সেজে প্রকৃতি প্রেমীদের বরণে প্রস্তুত থাকলেও দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় ধস নেমেছে পর্যটন ব্যাবসায়।

পর্যটন শিল্পের ব্যাবসায়ীরা জানান, বান্দরবানে হোটেল-মোটেল,রিসোর্ট সেন্টার,পরিবহণ, মার্কেট ও পর্যটন স্পটগুলোতে সংস্কার ও রক্ষণা-বেক্ষণে লক্ষ কোটি টাকা পুঁজি দিয়েও লাভের মুখ দেখছেন না। শুধুমাত্র বান্দরবানে এ ব্যাবসায় প্রতিদিন গড়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা। আরও কিছুদিন এভাবে চলে থাকলে লোকসানের কারণে এসব শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফারুক পাড়ার মিনথাং হস্তশিল্পের স্বত্তাধিকারী লালমিনথাং বম জানান, টানা অবরোধের কারণে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আগমন না থাকায় কোমর তাঁতে তৈরি কম্বল, মাফলা, বিভিন্ন পোষাক ও বাঁশের তৈরি হস্ত শিল্পের হরেক রকম জিনিসপত্রগুলো বিক্রি না হওয়ায় এর উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থণীতিতেও। আর তাঁত-হস্ত শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত হাজার হাজার মানুষ আর্থিক সংকটে ভূগছেন।

মাষ্টার গেষ্ট হাউজের মালিক থোয়াইংচপ্রু মাষ্টার জানান, প্রায় একমাস ধরে গেষ্ট হাউজের প্রতিটি রুম খালী পড়ে রয়েছে। অগ্রিম বুকিং করা রুমের টাকাও ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন পর্যটকরা। কিন্তু কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত প্রদান করতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে অনেক কর্মচারীকে বাধ্য হয়ে ছাটাই করতে হবে।

বান্দরবান হিলসাইট রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মনসুর জানান, দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় বান্দরবানের পর্যটন শিল্পে যে ক্ষতি হয়েছে তা দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরে এলেও এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না।  রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে দাঁড়িয়েছে এ শিল্প।

বান্দরবান হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুর ইসলাম জানান, বান্দরবানে পর্যটন, রিসোর্ট সেন্টার ও হোটেল-মোটেল ব্যাবসায় প্রতিদিন গড়ে ব্যাবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১১লাখ টাকা। সহসা রাজনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরণ না ঘটলে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে এবং শীঘ্রই এই শিল্প ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে সরকার এবং বিরোধীদলকে ক্ষতিকর কর্মসূচিগুলো পরিহার করে দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার দাবী জানান তিনি।

এ ব্যাপারে বান্দরবান জেলা প্রশাসক মিজানুর হক চৌধুরী বলেন, পর্যটন মৌসুমের কথা বিবেচনা করে পর্যটন স্পটগুলোতে সৌন্দর্য্য বর্ধন করা হয়েছে। তাছাড়া পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটন স্পটগুলো খালী অবস্থায় পড়ে আছে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly