জুড়াছড়িতে ডাকাতের গুলিতে এক যুবক গুলিবিদ্ধঃ কাউখালীতে বিবদমান দুপক্ষের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধ

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

01

  রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দূর্গম দুমদুম্যা ইউনিয়নে করইদিয়া পাড়া গ্রামে ডাকাতের গুলিতে অরুন চাকমা নামে এক যুবক গুরুত্বর আহত হয়েছেন। তাকে মুমুর্য অবস্থায় শনিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে রাঙামাটির নানিয়ারচর-কাউখালী সীমান্তবর্তী এলাকা কালাপাহাড় এলাকায় শুক্রবার ও শনিবার বিবদমান দুপক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের(ইউপিডিএফ) মধ্যে থেমে থেমে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, জুরাছড়ির উপজেলার সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত দুমদুম্যা ইউনিয়নের করইদিয়া পাড়া গ্রামে শুক্রবার সন্ধ্যায় ৭ থেকে ৮ জনের একদল মুখোশধারী ডাকাত অরুন চাকমার বাড়ীতে প্রবেশ করে। এসময় ডাকাতরা ঘরে রাখা মালামাল লুঠপাতের চেষ্টা চালালে অরুন চাকমা বাধা দেন। এ সময় এক ডাকাতের সাথে ধস্তাসস্তির এক পর্যায়ে অরুন চাকমাকে প্রথমে পায়ে একটি গুলি ও কোমড়ে পর পর দুই রাউন্ড গুলি করে। এতে অরুর চাকমা গুলিবিদ্ধ হয়ে সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে ডাকাত দলরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে শুক্রবার রাতে জুড়াছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় শনিবার প্রথমে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

দুমদম্যা ইউপি চেয়ারম্যান তরুণ মনি চাকমা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,সীমান্তবর্তী হওয়ায় বহিরাগতরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে গ্রামে হানা দেয়। জুরাছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউসুফ সিদ্দিকী জানান,এ ঘটনার শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করতে আসেনি।

অন্যদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় ও আজ শনিবার সকালের দিকে রাঙামাটির কাউখালী ও নানিয়ারচর উপজেলায় সীমান্তবর্তী কালাপাহাড় ও ফুড়ামোন এলাকার বিবদমান দুই পক্ষ জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে থেমে থেমে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। তবে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। এসময় স্থানীয়দের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় সেনাবাহিনী টহল জোরদার করা হয়েছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিবদমান এ দু পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ইউপিডিএফের সমর্থিত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক বাবলু চাকমা ইউপিডিএফ এ বন্দুক যুদ্ধের সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করে জানান, জনসংহতি সদস্যরা এলাকায় আতংক সৃষ্টির জন্য ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে।

তবে জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের সম্পাদক সজীব চাকমা এ বন্দুক যুদ্ধের ঘটনার ব্যাপারে তাদের জানা নেই উল্লেখ করে বলেছেন,এ ধরনের ঘটনার সাথে জনসংহতি সমিতির কোন সংশ্লিষ্টতা নেই এবং সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। অভিযোগটি সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। জেএসএস জড়িত নয়।

কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত নীলু বড়ুয়া জানান, ঘাঘড়া মনতলা এলাকায় কালাপাহাড়ে শুক্রবার সকালে ও রাতে এবং শনিবার সকালে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়েছে।
সে সময় থেমে থেমে উভয় পক্ষে গুলি বিনিময় হয়। কারা এ ঘটনায় জড়িত তা জানা না গেলেও এলাকায় সেনাবাহিনী টহল জোরদার করা হয়েছে।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,ওই এলাকায় সশস্ত্র দুগ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বিনিময় হয় এবং এতে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly