বরাদ্দের অভাবে বন্ধ হয়ে রয়েছে


জুরাছড়ির উপজেলার স্বপ্নের সেতু ভরসা এখন সাঁকো !

সুমন্ত চাকমা, জুরাছড়ি, হিলবিডিটোয়েন্টিফো ডটকম

jurahillbd24.com

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় চারটি ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য থানা-লুলাংছড়ি রাস্তার সংযোগ সেতুর কাজ মাঝ পথে এসে বন্ধ করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় জনগনের জোর দাবী জানালেও বরাদ্দের অভাবে চলতি বছরে ডিসেম্বরে কাজ শেষ হচ্ছে না। সেতুটির চলতি অর্থ বছরের ডিসেম্বর মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

এদিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দাবি করছেন বরাদ্দ পাওয়া গেলে আগামী অর্থ বছরে কাজ শেষ হতে পারে । এদিকে আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারনের মাঝে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুরাছড়ি উপজেলার থানা-লুলাংছড়ি রাস্তার সংযোগ কাঠের সেতুটি খুব ঝুকিপূর্ন হলে এলাকাবাসী সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের কাছে দীর্ঘ দিন ধরে দাবী করে আসছিলেন। এ কাঠের সেতুটি ঝুকিপূর্ন নিয়ে কয়েকবার পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চলতি বছর জানুয়ারী মাসে ৫কোটি ৫৩ লাক্ষ টাকা ব্যয় ধরে সেতুর কাজ শুরু করা হয়। এক দফ কাজ শুরু হলেও পরে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের অভাবে কাজ বন্ধ হয়ে আছে।

এলাকাবাসী জানান,সেতুর কাজ সমাপ্ত না হওয়ার কারণে সদর ইউনিয়নের ডেবাছড়া, মগবাজার, লুলাংছড়ি, ভিতর বালুখালী গ্রামসহ দুমদুম্য ও মৈদং ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলের ধান, বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি, আম, কাঁঠাল ও কলাসহ প্রচুর মৌসুমি ফলমূল উৎপাদন হয়। থানা-লুলাংছড়ি রাস্তার সংযোগ সেতু নির্মান কাজশেষ না হওয়ায় সাকো উপর দিয়ে এসব কৃষিপণ্য উপজেলা সদর ও সুবলং কিংবা রাঙামাটি নিয়ে যেতেকৃষকদের চরম দুর্ভোগপোহাতে হচ্ছে।

পানছড়ি ভুবন জয় মডেলে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তনয় চাকমা ও রূপা চাকমা জানায়, বাঁশের সাঁকো পাড় হতে গিয়ে খালে পড়ে যাওয়ার ভয়ে তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না।

কাজ পরিচালনাকারী দেওয়ান এন্টারপ্রাইজের মালিক সুমতি দেওয়ান জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ৫কোটি ৫৩ লাখ টাকার প্রকল্প কাজের মাত্র ৪০ লাখ টাকা দিয়েছে। কাজ পরিচালনার জন্য আরও টাকা পাওয়া গেলে বাকী কাজ শুরু করা যাবে বলে জানান।

দেওয়ান এন্টারপ্রাইজের কাজ পরিচালনা কর্মকর্তা মোঃ মনির জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড থেকে বরাদ্দ না পাওয়ার কারণে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ পূর্নরায় চালু করা হবে বলে তিনি জানান।

জুরাছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের মগবাজারের বাসিন্দার সুরেশ কুমার চাকমা হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, এলাকার কৃষকরা উৎপাদিত শাক-সবজি সহজে বাজারে বিক্রি করে কৃষকরা সুদিন ফিরে পেতে। কিন্তু থানা-লুলাংছড়ি রাস্তার সংযোগ সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে গেল।

উপজেলা চেয়ারম্যান প্রবর্তক চাকমার জানান,সেতুটি জুরাছড়ি বাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী। অথচ সেতুটির এলাকার প্রয়োজনীয়তার ব্যাখা করে কর্তৃপক্ষের কাছে বাব বার অনুরোধ করার সত্বেও কর্তৃপক্ষ কোন আমলে নিচ্ছে না। বরং উল্টো করে সেতু কাজে প্রদত্ত বরাদ্দ দিয়ে অন্য খাতে ব্যায়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly