জুরাছড়িবাসীর বিদ্যুতের দুর্ভোগের শেষ কোথায় ?

সুমন্ত চাকমা, জুরাছড়ি, হিলবডিটোয়েন্টিেেফার ডটকম

IMG_0478

দীর্ঘ বছরের পর বছর প্রতিক্ষার পর কাপ্তাই হতে জুরাছড়িবাসী বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেও, পাইনি বিদ্যুৎতের সুযোগ-সুবিধা। উল্টো বেড়েছে আর্থিক ক্ষতি, জনদুর্ভোগ, সমস্যা ও হয়রানি। দৈনিক ২২ ঘন্টা লোডশেডিং কিংবা লো ভোল্টেজে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেও গত সোমবার দিবাগত রাত্রে আনুমানিক ২টায় থেকে বিদ্যুাৎ লাইন বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর অভিযোগ টেকনিশিয়নরা গ্রাহকের কাছে উৎকোচ দাবি পুরনের জন্য এমন কান্ড করছেন।

জানা গেছে, ১৯৬০ সালে পাশের উপজেলা কাপ্তাইয়ে জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর উপজেলায় বিদ্যুৎ দেওয়া হয় ২০১২ সালে। কিন্তু শুরু থেকে উপজেলায় লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজ। সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবল যোগ করেছে নতুনমাত্রা। ফুটবল খেলা উপভোগ করতে উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের প্রতিদিন গুনতে হয়েছে ৩-৫ হাজার টাকা। যেদিন টাকা পাঠানো হয়নি সেদিন ফুটবল খেলা দর্শন থেকে বঞ্চিত হয়েছিল জুরাছড়িবাসী। এ বিষয়টি স্থানীয় ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে- দু-চার দিন পরিপূন্য ভাবে বিদ্যুৎ পেলেও জুরাছড়িবাসীর জন্য নেমে আসে অভিশাপ। সাপ্তাহ যেতে না যেতে লোডশেডিংয়ের আর লো ভোল্টেজ নামে শুরু হয় জনদুর্ভোগ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা গ্রাহকরা পিডিপির কর্মরত টেকনিশিয়নদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, লাইনের সমস্যা কিংবা একটু পরে চলে আসবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, টেকনিশিয়নদের সেই সময় কখন আসবে কিংবা হবে দিন শেষে রাত এলেও বিদ্যুৎ আসে না।

উপজেলা চেয়ারম্যান উদয় জয় চাকমা বলেন, জুরাছড়িবাসীকে লোডশেডিং কিংবা লো ভোল্টেজের মত দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা করতে উপজেলা মাসিক সভায় জোর পদক্ষেপের দাবী ও পিডিপির উর্ধ্বত কর্মকর্তাদের মুঠো ফোনে অনুরোধ জানানো হলেও কোন ফলশ্রুতি হচ্ছে না। এ দুর্ভোগের শেষ কোথায় বলে তিনি বিম্ময় পকাশ করেন।

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা বিজয় গিরি চাকমা জানান, জরুরীভাবে বয়স্ক ও বিধাব ভাতার প্রাপ্তিদের তালিকা জেলায় প্রেরনের নিদের্শ এসেছে। এই তথ্য প্রেরণের রাঙামাটি শহরে যেতে হচ্ছে।
উপজেলা একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী সত্য প্রিয় চাকমা জানান, বিদ্যুৎ সব সময় না থাকার কারণে অনলাইনের কাজ চরম ভাবে সমস্যা হচ্ছে। এ সব করতে অফিস ছেড়ে রাঙামাটি শহরে গিয়ে করতে হচ্ছে।

এই বিষয়ে জুরাছড়ি বিদ্যুৎ বিতরণ ও সিনিয়র টেকনিশিয়ন জ্ঞান রতন চাকমা বলেন, উপজেলায় পিডিপির একমাত্র আমি। আমি একজনে একাই কি করবো-তার পরেও জুরাছড়ি উপজেলায় লাইনের কোন সমস্যা থাকে না সমস্যা করা হচ্ছে বিলাইছড়ি কিংবা কাপ্তাই মূল লাইনে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly