জুরাছড়িতে জনগুরুত্বপূর্ন সড়ক ও সেতুর সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে থমকে রয়েছে

সুমন্ত চাকমা,জুরাছড়ি,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

02

জুরাছড়ি উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ন সড়কগুলো সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য ২০১২-১৩ অর্থ বছরে প্রকল্প হাতে নিলেও পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে থমকে রয়েছে। এসব প্রকল্প যথাযথ বাস্তবায়িত না হওয়ায় এলাকাবাসী চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে । প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দাখিল সংস্থার দাবি প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠালেও, বরাদ্দের অভাবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড উপজেলার বিভিন্ন রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ৫ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের মধ্যে উপজেলার লেবার পাড়া থেকে বালিশ পাড়া পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন, থানা সংলগ্ন ডেবাছড়া সংযোগ রাস্তার ব্রীজ নির্মাণ এবং বালুখালী থেকে সামিরা রাস্তা উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের কথা ছিল। এর মধ্যে ২০১২-১৩ বছরে এ সব প্রকল্পের মধ্যে অগ্রধিকার ভিত্তিতে থানা সংলগ্ন ডেবাছড়া সংযোগ রাস্তার ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায় এবং ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ১০ লক্ষ বরাদ্দ পাওয়া যায়। এসব বরাদ্দের বিপরীতে দু’পাশে দুটি বক্স কালভাট নির্মান করা হয়। তবে দু’টি কালভাটের মাঝখানে ২শ ২২ ফুট দুরুত্ব মাটি ভরাট কাজ অসমাপ্ত রাখা হয়। ৪০ লক্ষ টাকার ব্যয়ে নির্মিত হলেও ২শ ২২ফুট সাঁকো বেয়ে পাড়াপাড় হতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের। ফলে এলাকাবাসীদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌছেছে। সড়কটি পুর্নাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।

ডেবাছড়ার বাসিন্দার ধনরতন চাকমা বলেন, এমপি, মন্ত্রী সফরে এলে রাস্তা সংস্কার কিংবা উন্নয়নের হিড়িক পরে। এখন আর মন্ত্রীও সফরে আসে না রাস্তার কাজও উন্নয়ন হয় না। অথচ দুই বছর আগে এই কাজ শুরু করা হলেও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

স্থানীয় কৃষক বিকাশ জ্যোতি চাকমা জানান, সেতুর কাজ অসমাপ্ত থাকায় এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য উপজেলা সদর বাজার, সুবলং বাজার ও রাঙামাটি শহরে নিয়ে যেতে পারছে না। ফলে তাঁদের আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে।

লুলাংছড়ি মৌজার হেডম্যান মায়ানন্দ দেওয়ান জানান, সংযোগ সেতুটি বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসীর যোগাযোগ ও উৎপাদিত কাচামাল বাজারজাত করণে সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জুরাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ক্যানন চাকমা বলেন, সড়কটির কাজ অসমাপ্ত থাকায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়িত হলে এলাকাবাসীর যাতায়াতের পথ অনেক সুগম হবে।

লুলাংছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিক মমতা চাকমা বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বেশি সমস্যা পড়তে হয় সাধারন রোগী ও গর্ভবতীদের নিয়ে যাতায়াত করতে।

পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিরঞ্জন নাথ বলেন, প্রতি বছর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠিয়ে থাকি। তার পরেও কর্তৃপক্ষের কোন বরাদ্দ দিচ্ছে না। ফলে বরাদ্দের অভাবে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা বলেন, এ সেতুটি উপজেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবী। অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা পরিষদ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙামাটি জেলা পরিষদ সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার কাছে আবেদন করা হয়েছে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly