খাাদ্য নিরাপত্তা বিধানে তিন পার্বত্য জেলায় কৃষি পরিকল্পনা ইউনিটের উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

FAO Picture-11-05-14-01
পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বিধানের লে তিন পার্বত্য জেলার পরিষদের মাধ্যমে কৃষি পরিকল্পনা ইউনিট উদ্বোধন করা হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাউ) কারিগরী সহায়তায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় এই ইউনিটের তত্বাবধান করবে।

রোববার রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সন্মেলন কে কৃষি পরিকল্পনা ইউনিটের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্যে দেন সংরতি মহিলা আসনের সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চাথোয়াইঅং মারমা ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মহা পরিচালক মোঃ হানিফ মিয়া ।

স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউ-এর বাংলাদেশস্থ আবাসিক প্রতিনিধি মাইক রকসন। অনুষ্ঠানে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের কৃষি কর্মকর্তা ও গবেষকসহ তুলা, ইক্ষু, মৃত্তিকা সম্পদ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহারদুর বলেন, সারাদেশের ন্যয় সরকার পাহাড়ের কৃষির উন্নয়নে মহা পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে তিন পার্বত্য জেলায় বিশেষ কৃষি পরিকল্পনা ইউনিট স্থাপন করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার উদযোগ নিয়েছে।

তিনি পাহাড়ের বাস্তবতার নিরিখে আবহাওয়া, মাটি ও পরিবেশ অনুকুল ভিত্তিক গবেষনা করে অধিক ফলনশীল জাতের বীজ আবাদের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন করে যাবে।

সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, পার্বত্য এলাকা কৃষির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কিন্তু এ সম্ভবনাকে তামাক গ্রাস করে নিচ্ছে। তিনি কৃষকদেরকে অধিক খাদ্য শষ্য উৎপাদনে আগ্রহী করে তুলতে উদ্দ্যেকতআদেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

পার্বত্য মন্ত্রনায়লের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ের কৃষির যে সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে। পাহাড়ে তামাকের আগ্রাসন বন্ধ করে কৃষির উৎপাদন বাড়াতে সরকার যে উদযোগ নিয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন প্রসঙ্গ টেনে সচিব বলেন, সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন কাজ অব্যহত রেখেছে। ১২মে ঢাকায় চুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমিগুলোকে সঠিক পরিষংখ্যানে চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জলেভাসা জমির পাশাপাশি পাহাড়ের উচ্চ ভুমিতেও ফলনের জন্য সেচের ব্যাবস্থা করা জরুরী। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পাহাড়ের কৃষির উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।

কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের মহাপরিচালক মোঃ হানিফ বলেন, সরকার খাদ্য নিরাপত্তা বিধানে পাহাড়ের কৃষির উন্নয়নে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। পাহাড়ের কৃষি পরিকল্পনা ইউনিট স্থাপন এ পদক্ষেপেরই অংশ। পার্বত্য এলাকা থেকে গবেষনায় উদ্ভাবিত অধিক ফলনের চাষাবাদের পরিকল্পনা গ্রহনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরির্কপনা বাস্তবায়নে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কেন্দ্র থেকে তৃনমূল পর্যন্ত সকল পর্য়ায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা চাষীদের নিয়ে কাজ করে যাবে। তিনি সংশ্লিষ্টদের সকরকে বাস্তবমূখী তেকসই পরিকল্পনা প্রনয়নে কাজ শুরুর উপর গুরুত্বারোপ করেন।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly