খাগড়াছড়ির  য়ংড বৌদ্ধ বিহারের ১১১তম কঠিন চীবর দান সম্পন্ন

খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

pic-1

খাগড়াছড়ি শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী য়ংড বৌদ্ধ বিহারের ১১১তম কঠিন চীবর দান উৎসব শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ‘য়ংড বৌদ্ধ বিহার’টি এই জেলার সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহ্যবাহী মন্দির। ১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে স্থানীয় দানশীল ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তিত্ব রায় বাহাদুর রেম্রাচাই চৌধুরী এ মন্দিরটি নির্মাণ করেন। তিনি খাগড়াছড়ি বাজারের প্রতিষ্ঠাতাও। প্রতি বছর কঠিন চীবর দান, প্রবরণা, বৈশাখী এবং মধু পূর্ণিমা’র সময় বিহারটি হয়ে ওঠে সকল সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষের সম্প্রীতির ঠিকানায়।

এবারও কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপন কমিটি’র আয়েজনে শুক্রবার সকাল থেকে গভীর রাতব্যাপী এই বিহারে জমায়েত ঘটে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের।

সকালে  ধর্মীয় সংগীতের মাধ্যমে পতাকা উত্তোলন ভিক্ষু সংঘের আরোং ছুয়াইং(প্রাতঃ রাশ), বৃদ্ধ, সম্মিলিত বুদ্ধ পূজা, ভিক্ষু সংঘের আসন গ্রহন, পঞশীল গ্রহন, বুদ্ধ মুর্তি দান, সংঘ দান, অষ্ট পরিস্কার দান, হাজার বাতি দান, ধর্মদেশনা, ভিক্ষু সংঘের পিন্ডদান, দায়ক-দায়িকা বৃন্দের ভোজন অনুষ্ঠিত হয়।

ভদন্ত উপ্ঞ মহাথের’র সভাপত্বিতে অনুষ্ঠিত ধর্ম দেশনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়াম্যান চাইথোঅং মারমা। বিশেষ অতিথি ছিলেনজেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদ করিম, পৌর মেয়র মোঃ রফিকুল আলম এবং সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা।

ধর্ম দেশনা দেন য়ংড বৌদ্ধ বিহার অধ্যক্ষ শ্রীমৎ অগ্রবংশ মহাস্থবির, রামগড় মহামুনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ সুবনা মহাথেরো’র সভাপতিত্বে মংগলচারন দানপর্ব পরিচালনা করেন আমতলী বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ খেমাসারা স্থবির, নুনছড়ি উদিনা পালিটোল বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ উইচারা ভিক্ষু ধর্মদেশনাসহ উপস্থিত অতিথি ভান্তে ভিক্ষু ও শ্রমনরা ধর্ম দেশনা দেন । য়ংড বৌদ্ধ বিহার দানোৎত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব উদযাপন কমিটি’র আহবায়ক অংসা মারমা, সদস্য সচিব অংসাপ্রূ মারমা।

এসময় জেলার ৯টি থানার বৌদ্ধধর্মালম্বীরা অংশ গ্রহন করেন । এর আগে দায়িকা-দায়িকাদের উদ্দ্যোগে এলাকার দরিদ্র ও বয়োজ্যেষ্ঠ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মাঝে ৪৫ সেট বস্থ বিতরণ প্রদান করা হয়। সন্ধ্যায় ভান্তেদের উদ্দেশ্যে কঠিন চীবর উৎসর্গ, হাজার প্রদীপ পুজা ও আকাশ প্রদীপ উত্তোলনের মধ্যদিয়ে বিভিন্ন কর্মসুচি গ্রহন করা হয়।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly