খাগড়াছড়ির মহালছড়ির প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিদেশী ফল ‘স্ট্রবেরী’র আবাদ

খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

k-1hillbd24.com

প্রত্যাশিত লাভ আর চাহিদার কারণে খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, বিদেশী ফল ‘স্ট্রবেরী’র আবাদ। যথাযথ পরিচর্যা অনুকুল আবহাওয়া এবং স্বাদে অনন্যতায় স্ট্রবেরী ফলের সুঘ্রাণ ছড়িয়েছে স্থানীয় হাট-বাজারেও।

এখন প্রতি কেজি ৭’শ থেকে ৮’শ টাকায় স্ট্রবেরী বিক্রি করছেন খাগড়াছড়ির চাষীরা। সম্পূর্ন নিজেদের প্রচেষ্টায় স্ট্রবেরী চাষে সফলতার মুখ দেখছেন কৃষকরা। কিন্তু সরকারীভাবে বাজারজাতকরণের কোন উপায় বা কৃষি বিভাগের কোন নির্দেশনা না থাকায় সম্ভাবনাময় এই ফল চাষের প্রত্যাশিতভাবে সফল হওয়া যাচ্ছে না।

সখ আর কৌতুহল নিয়ে ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো ধশ শতক জমিতে স্ট্রবেরী চাষ শুরু করেন মহালছড়ি উপজেলার করল্যাছড়িমুখ এলাকার শিক্ষক দম্পতি বিমলব্রত চাকমা ও মুনমুন খীসা । প্রথম বছরেই বাজিমাত করেন তাঁরা।

পেশায় দুইজনই শিক্ষক  হলেও কৃষিকাজে অভ্যস্ত হওয়ায় মাত্র তিন বছরে স্ট্রবেরী চাষে সফলতার নজির স্থাপন করেছেন তারা। প্রথম বছর দশ শতক, গত বছর ৫০ শতক এবং এবার প্রায় দু’কানি জমিতে আবাদ করেছেন।

সামনে আরও একমাস ফসল তোলার সময় থাকলেও এরই মধ্যে বিক্রি করেছেন আড়াই লক্ষ টাকার স্ট্রবেরী। স্বপ্ন দেখছেন দশ লক্ষ টাকার উপার্জনের।

ধার করা টাকায় স্ট্রবেরী চাষ শুরু করলেও এখন তাঁরা অনেকটা স্বাবলম্বী। স্বপ্ন দেখছেন ছেলেমেয়েদের সুশিক্ষিত করা ও  জেলা শহরে বাড়ী করার।

k2hillbd24.com

বিমলব্রত চাকমা জানান, ২০০৭ সালে শিক্ষকতার খাতিরে কুমিল্লার টার্কে একটি বিষয়ভিত্তিক ট্রেনিং-এ এই ফসলের সর্ম্পকে জানতে পারেন। ট্রেনিং শেষে আসার পথে সঙ্গে ৩টি চারাও কুমিল্লা থেকে সাথে নিয়ে আসেন। কিন্তু সফল হতে পারেননি। স্রেফ নিজের একাগ্রতাকে পুঁজি করে তিনি কক্সবাজারের সফল স্ট্রবেরী চাষী রেজাউল করিমের কাছ থেকে ৫’শ চারা নিয়ে আসেন।  ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো ১০ শতক জমিতে শুরু করেন, স্ট্রবেরী চাষ। আর সেই থেকে সাফল্যেও সিড়ি বেয়ে পেছন ফিরে দেখতে হয়নি তাঁকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিমলের স্ট্রবেরী চাষের সুবাদে মহালছড়ি উপজেলা ক্যায়াংঘাট ইউনিয়নের চেঙ্গী পাড়ের গ্রাম “করল্যাছড়ি মুখ” হয়ে উঠেছে পরিচিত এক জনপদে। গড়ে তুলেছেন, স্ত্রী’র নামে “মুন স্ট্রবেরী খামার।এখন মুন স্ট্রবেরী খাগড়াছড়ি জেলার সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, চট্টগ্রাম-ঢাকাতেও। শুধু তাই নয়, তাঁর প্রণোদনায় স্ট্রবেরী চাষ শুরু করেছেন অনেক আদিবাসী কৃষক। এর মধ্যে মানিকছড়িমুখ গ্রামের থৈই হ্লা সাই মারমাও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন স্ট্রবেরী চাষে।

একসময় বিমল ব্রত চাকমা ও মুনমুন খীসা দম্পতির স্ট্রবেরী চাষকে অনেকে উপহাস করলেও এখন মহালছড়ির প্রত্যন্ত গ্রামে ছড়িযে পড়েছে ব্যাপক উৎসুক্য। জেলা ও জেলার বাইরের অনেক বড় মাপের মানুষ পাড়ি জমান তাঁর পানে। পুরো এলাকার মানুষের কাছে এঁরা হয়ে উঠেছেন কৃষি সফলতার পথিকৃৎ। তাঁদের ক্ষেতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন দশ জনের অধিক মানুষ।

বিমলব্রত চাকমা’র সহ-ধর্মিনী মুনমুন খীসা বলেন, একদিকে নিজের কোন অভিজ্ঞতা ছিল না তার উপর কৃষি বিভাগও উদাসীন। ফলে ভীষণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। ২০১২ সালের ঠিক এসময়ে বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছিল তাঁদের দু’কানি ফলবতী ক্ষেত। কিন্তু তাতে দমে যাননি বিমল-মুনমুন দম্পতি।

প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসকে সাথে নিয়ে এ বছর ৫০ শতক জমি দিয়েই লাভের সীমাকে নিয়ে গেছেন প্রত্যাশার বাইরে।

মাইস্ছড়ির পচাই কার্বারী পাড়ার কলেজ ছাত্র নিঅংশু মারমা জানান, তার বাবার হাত ধরে গত দু’বছর যাবত তারাও স্ট্রবেরী চাষ শুরু করেছেন। এবছর ২০ শতক জমিতে চাষ করে আগাম ফলন পাওয়ায় খুশী অনেক।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র’র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, স্ট্রবেরী বিদেশী বিশেষ করে আমেরিকান ও জাপানী ফল হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় এটি আমাদের দেশেও ফলন উপযুক্ততা পেয়েছে।

এই ধরনের ব্যতিক্রমী ফলনে তৃণমূল চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা গেলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

 

 

Print Friendly