খাগড়াছড়ি’র কমলছড়িতে সহিংসতা উত্তর মতবিনিময় সভা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, হিলবিডিটোয়ন্টিফোর ডটকম

খাগড়াছড়ির কমলছড়িতে গত ২৫ ফেব্রয়ারী সংঘটিত জাতিগত সংঘাতকে অনাকাংখিত এবং একটি অপশক্তি’র উস্কানিমুলক অপ-তৎপরতা বলে আখ্যায়িত করেছেন খাগড়াছড়ি’র সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সাব্বির আহমেদ। বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার ভূয়াছড়ি সেনা ক্যাম্প মাঠে কমলছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সাথে মত-বিনিময়কালে এ ঐক্যমত প্রকাশ করেন।

peace meeting pic-12.3.2014hillbd24.com

কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি তার বক্তব্যে আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে গত দুই যুগের ভাতৃঘাতী সংঘাত নিরসনের জন্যই আওয়ামীলীগ সরকার ‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি’ সম্পাদন করেছে। পাহাড়ে শান্তির জন্য এই চুক্তি বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই। সেনাবাহিনীর জিওসি মেজর জেনারেল সাব্বির আহমেদ বলেন, পাহাড়ী-বাঙ্গালী নয়; সবাই যদি একই দেশের-পরিবারের স্বজন হিসেবে বসবাসের বাস্তবতা উপলদ্ধি করি, তাহলে কোন অশান্তি থাকবেনা।উগ্রতা আর গুজবে কান দিয়ে সংঘটিত সংঘাতের ফলে দেশের ইমেজ নষ্ট করলে নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই ধ্বংস করবো। তাই শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে পার্বত্যবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবী। মহালছড়ি জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মত-বিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অধিনায়ক কাজী মোঃ শামসুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদ করিম ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহজান হোসেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে খাগড়াছড়ি পৌর সভার মেয়র মোঃ রফিকুল আলম, সদর উপজেলার নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ শানে আলম, কমলছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান সুপন খীসা, পার্বত্য বৌদ্ধ মিশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সুমনালংকার মহাথেরো, কমলছড়ির হেডম্যান কীর্তিময় চাকমা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহজাহান ফরাজী। মতবিনিময় সভায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারী’র সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি পাহাড়ী-বাঙ্গালী পরিবারকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রদান, ক্ষতিগ্রস্ত বৌদ্ধ মন্দির মেরামত ও সংস্কার এবং কমলছড়ি’র আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শিগগির উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly