খাগড়াছড়িতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় পাঠদান সংযুক্তিকরণের সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

DC_DMEABS
আজ শুক্রবার(১৩ ডিসেম্বর) খাগড়াছড়িতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা সংযুক্তকরণের সম্ভাব্য সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেল কমপ্লেক্সের হল রুমে দাতাসংস্থা ‘সেভ দ্যা চিলড্রেন’ ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মোঃ মাসুদ করিম। জাবারাং’র সভাপতি চন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমেন্দ্রনাথ পোদ্দার, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর রিন্টুময় চাকমা, দীঘিনালা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর মোঃ মাইনউদ্দিন, পানছড়ি উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কনিকা খীসা, খাগড়াছড়ি প্রেস কাবের নবনির্বাচিত সভাপতি জীতেন বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা ও প্রকল্প সম্পর্কে তথ্য উপস্থাপন করেন সেভ দ্যা চিলড্রেন-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক দেবপ্রিয় চাকমা।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দলগত কাজ করে ভবিষ্যতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির ভাষায় বহুভাষিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সমস্যা এবং সেসব সমস্যা হতে উত্তরণের উপায় বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, সেভ দ্যা চিলড্রেন ও জাবারাং পরিচালিত প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিভিন্ন ভাষা কমিটির (চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা) প্রতিনিধি, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি, জেলার নেতৃস্থানীয় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধি ও প্রেস কাবের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মশালার সম্মানীত অতিথিবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন পর্বে বক্তৃতা করেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সত্যপ্রিয় ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু দাউদ, শিশুর ক্ষমতায়ন প্রকল্পের সমন্বয়কারী গীতিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল আবছার, মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক রূপম ত্রিপুরা প্রমুখ।

উপস্থিত অংশগ্রহণকারী ও বক্তারা এসব প্রতিবন্ধকতা উত্তরণের জন্য সকল শিক্ষককে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির ভাষায় মৌলিক যোগাযোগের উপর প্রশিক্ষণ দান, পিটিআই ও ইউআরসিগুলোতে মাতৃভাষাভিত্তিক বহুভাষিক শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষন দান, স্ব স্ব ভাষার শিক্ষক উক্ত ভাষাভাষি এলাকায় পদায়ন, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির ভাষায় পাঠ্য বই ও অন্যান্য সহায়ক প্রকাশনা বের করা উদ্যোগ গ্রহণ, পার্বত্যাঞ্চলে পদায়িত সরকারি কর্মকর্তাদের বিশেষ করে ফ্রন্টলাইন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির ভাষায় প্রশিক্ষণ দান, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্তকরণ, পার্বত্য জেলা পরিষদের নেতৃত্বকে সুসংহতকরণ ও প্রক্রিয়ায় তাঁদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরন, মাতৃভাষা থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাষায় উত্তরণের জন্য যথাযথ ব্রিজিং প্রক্রিয়া প্রবর্তন, নিজ নিজ ভাষায় লেখালেখিতে দক্ষ ব্যক্তিদের সম্পৃক্তকরণ, হরফ ও বর্ণ পরিচয়ের বই প্রকাশ, সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম গ্রহণ, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির দক্ষতা বৃদ্ধি ও সক্রিয়করন ইত্যাদি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ মাসুদ করিম বলেন, সরকারের সদিচ্ছার কারণে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠির ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। মাতৃভাষায় শিক্ষার বুনিয়াদ গড়ে তোলা সম্ভব হলে শিশুদের সক্ষমতা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটে। পাঠ্যপুস্তক প্রকাশ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে দেশের অনগ্রসর অঞ্চলের শিশুরা তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly