খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী শ্মশান বেদখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ডেস্ক রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলাধীন কমলছড়ি ইউনিয়নের মঙ্গলচাঁন পাড়ার দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের একমাত্র শ্মশান বেদখলের প্রতিবাদে শনিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সদস্য সচিব রিপন চাকমার স্বাক্ষরিত প্রেস বার্তায় বলা হয়, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলাধীন কমলছড়ি ইউনিয়নের মঙ্গলচাঁন পাড়ার দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের একমাত্র শ্মশানটি ভূমিদস্যু জামায়াত নেতা স্কুল শিক্ষক মাহবুল হক সেলিম হুজুর কর্তৃক বেদখল হয়। এরই প্রতিবাদে শনিবার সকালে শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ নেন। ‘মঙ্গলচাঁন পাড়া শ্মশান পুনরুদ্ধার আন্দোলনে সামিল হউন” এই শ্লোগানে মঙ্গলচাঁন পাড়া শ্মশান ভূমি রক্ষা কমিটির ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিহারী ত্রিপুরা। সুজন ত্রিপুরার সঞ্চালনায় সংহতি বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, সাংবাদিক চাইথোয়াই মারমা, ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের দপ্তর সম্পাদক হরিপদ ত্রিপুরা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির সদস্য সচিব রিপন চাকমা ও মঙ্গলচাঁন পাড়ার বাসিন্দা বাবুল ত্রিপুরা প্রমুখ।

বক্তারা অভযোগ করে বলেন, বিগত ২০০৪ সালে তৎকালীন ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মাহবুবুল হক সেলিম হুজুরের নেতৃত্বে শ্মশান ভূমিটি বেদখল শুরু হয় এবং বর্তমান পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। বেদখল হতে হতে ৮০ শতক পরিমাণ শ্মশান ভূমিটি বর্তমানে ৫ শতকেরও কম অবশিষ্ট রয়েছে।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ভূমি দস্যুরা পবিত্র শ্মশান ভূমিকে কোন মর্যাদা না দিয়ে দখল করতে থাকলে গ্রামবাসীরা দুর্নীতি দমন কমিশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করলে বিষয়টি তত্ত্বাবধান করার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, প্রশাসনের সঠিক তদারকি ও তত্ত্বাবধানের গাফিলতির কারণে সেলিম হুজুর শ্মশানটি বেদখলের সাহস পাচ্ছে।

¬¬¬বক্তারা অবিলম্বে শ্মশান বেদখলকারী ভূমি দস্যু মাহবুল হক সেলিম সহ তার দোসরদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বেদখলকৃত ঐতিহ্যবাহিনী শ্মশান ভূমি পুনরুদ্ধারের জোর দাবি জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly