কাপ্তাই হ্রদে টানা বিশ ঘন্টার ম্যারাথন সাতাঁরে রেকর্ড গড়লেন সাতাঁরু মোঃ হাফিজ আহাম্মদ বুলু

স্পের্টস রিপোর্টার, হিলিবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

3

মাথা শুকনা অবস্থায় একটানা ২০ ঘন্টা কাপ্তাই হ্রদে ম্যারাথন সাতাঁর নৈপণ্য প্রদর্শন করে বিরল রেকর্ড গড়ালেন রাঙামাটির ফায়ার সার্ভিস স্টেশন লিডার ও সাতাঁরু মোঃ হাফিজ আহাম্মদ বুলু। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় সাঁতারু বুলু রাঙামাটি সার্ভিস স্টেশন ঘাট এলাকায় ম্যারাথন সাতাঁরের জন্য কাপ্তাই হ্রদের পানিতে নামেন। সাতাঁরু হাফিজ আহাম্মদ বুলুর আগামীতে একটাই লক্ষ্য ও স্বপ্ন হচ্ছে পানিতে মাথা না ভিজিয়ে একটানা ২৪ ঘণ্টার সাতাঁর কেটে ইংলিশ চ্যানেল পাড় করে গিনেস বুক অব ওয়াল্ড রেকর্ডে স্থান করে বাংলাদেশের জন্য বিরল সন্মান বয়ে আনা।

মাথা শুকনা অবস্থায় একটানা ২০ঘন্টা কাপ্তাই হ্রদে ম্যারাথন সাতাঁর প্রদর্শনীর শেষে আজ বুধবার বিকাল ৩টায় (৩০ অক্টোবর) রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস  স্টেশন কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।অনুষ্ঠানে পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টোর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও পৌর কমিশনার রবিউল আলম রবি ও সাতাঁরু মোঃ হাফিজ আহাম্মদ বুলু। এর আগে বিকাল ৩টায় বূলুকে শরবত খাইয়ে ম্যারাথন সাতাঁর প্রদর্শন সমাপ্ত ঘোষনা করেন পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভট্টো। এ সময় বুলুর সাঁতার প্রদর্শন দেখতে হ্রদের ধারে প্রচুর দর্শক সমাগম হয়। এ অন্যন্য রেকর্ডের জন্য সাতাঁরু বুলুকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা,জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ হাজার টাকা,  রাঙামাটির পৌরসভার  থেকে ৫ হাজার টাকা এবং রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্বরুপ পুরুস্কার প্রদান করা হয়।

2উল্লেখ্য, এর আগে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার বাসিন্দা মোঃ হাফিজ আহম্মদ বুলু বান্দরবান জেলা, নোয়াখালীতে পানিতে থেকে রেকর্ড করে। এছাড়া রাঙামাটির শুলং থেকে রাঙামাটি ফিসারী ঘাট ও নারায়নগঞ্জ হতে চাঁদপুর পর্যন্ত মাথা না ভিজিয়ে এই ধরনের ম্যারাথন সাঁতার প্রদর্শন করেছেন।

সাতাঁরু হাফিজ আহাম্মদ বুলু বলেন আগামীতে তার স্বপ্ন হচ্ছে পানিতে মাথা না ভিজিয়ে একটানা ২৪ ঘণ্টা সাতাঁর কাটা রের্কড করা এবং সাতাঁর কেটে ইংলিশ চ্যানেল পাড় করে গিনেস বুক অব ওয়াল্ড রেকর্ডে স্থান করে নেয়া। সে জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সফলতা লাভের জন্য তিনি সকলের দোয়া কামনা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিখিল কুমার চাকমা টানা ২০ ঘন্টার ম্যারাথন সাতাঁরের সফলতা লাভ করায় সাতাঁরু মোঃ হাফিজ আহম্মদ বুলুকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সাতারু হাফিজের সাঁতার নৈপুণ্যের যে সফলতা তা ঠিকমতো তুলে ধরতে পারলে একদিন ঠিকই সাতারু হাফিজ গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করতে পারবেন। সে জন্য আমাদের উচিৎ সকলে মিলে তাকে সহযোগীতা করা। কারণ এ ধরনের এক নাগাড়ে ২০ ঘন্টা মাথা না ভিজিয়ে সাতাঁর কাটার রেকর্ড আমাদের দেশে নেই বললেই চলে। হাফিজের এই সাতাঁর নৈপুণ্যের সফলতা বিশ্বের বুকে সাতাঁরের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিষদ চেয়ারম্যান  আরও বলেন, স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে দেশের মান বাড়াতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে তা ক্রীড়া ক্ষেত্রে হোক বা অন্য যে কোন ক্ষেত্রে হোক। হাফিজের যে ক্রীড়া নৈপূণ্যে রয়েছে তা আমাদের সকলের জন্য সর্বোপরি দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এ সমস্ত মেধাবী গুনী মানুষগুলোকে তার কাজ করার সুন্দর পরিবেশ আমাদেরকেই সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক একজন ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তি ও সর্বোপরি রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতিও। তাই আমি অনুরোধ জানাবো রাঙামাটিতে সাতাঁরের প্রশিক্ষণের জন্য একটি সুইমিং পুল স্থাপনের উদ্যোগ নেন।  তিনি হাফিফের সাতাঁরের নৈপণ্যর জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকার চেক প্রদান এবং আগামীতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আরও সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/এনএ.

1

Print Friendly