কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়াতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নৌ চলাচল ব্যাহত

বিশেষ রিপোর্টার, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

hill1hillbd24.com

কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত কমে যাওয়ায় কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে ১টি নিয়মিত চালু থাকলেও বাকী ৪টি ইউনিট পিক-আওয়ারে চালু করতে হচ্ছে। অন্যদিকে জেলার দশ উপজেলার মধ্যে ছয় উপজেলায় নৌ যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় উপজেলাবাসীর চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।

কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, গ্রীস্ম মৌসুমে সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর অতিদ্রুত কমতে শুরু করায় ২৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সম্পন্ন কাপ্তাই জলবিদ্যৎ উৎপাদন কেন্দ্রর বিদ্যূৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪টি ইউনিটের মধ্যে ১টি ইউনিট নিয়মিত চালু থাকলেও বাকী তিনটি পিকওয়ারে(সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা) চালু করতে হচ্ছে। সোমবার কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা ছিল ৭৬ দশমিক ৯৪ এমএসএল(মিনস সি লেভেল)। রুল কার্ভ অনুযায়ী হ্রদের পানির উচ্চতা স্তর থাকার কথা ছিল ৮১ দশমিক ২৫ এমএসএল। যা স্বাভাবিক চেয়ে সোয়া ৫ফুট পানি কম রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যূৎ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৮৪মেগাওয়াট। হ্রদের পানির উচ্চতা ৬৮ এমএসএলের নিচে নেমে গেলে বিদ্যূৎ উৎপাদন বিপদজনক ধরা হয়। তবে সহসাই বৃষ্টিপাত না হলে সবকটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

অপরদিকে, হ্রদের পানি কমে যাওয়াতে জেলা সদরের সাথে দশ উপজেলার মধ্যে ছয় উপজেলায় নৌপথের যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। হ্রদের মধ্যে জেগে উঠেছে ছোট বড় দ্বীপ বা ডুবোচর। উপজেলার মধ্যে রয়েছে নানিয়ারচর, বরকল, বাঘাইছড়ি, জুড়াছড়ি, লংগদু ও বিলাইছড়ি। এসব উপজেলায় যাত্রবাহী লঞ্চ উপজেলা সদরে পৌঁছাতে পারছে না। অর্ধেক পথে যাত্রীদের নামিয়ে যেতে হচ্ছে। তবে কয়েকটি উপজেলায় ছোট ছোট ট্রলার দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে উপজেলাবাসীকে। ফলে দুর্ভোগের সীমা নেই। এছাড়া লঞ্চ উপজেলা সদরে যেতে না পারায় এসব উপজেলার বাজারগুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদিত পন্য চাষীরা সঠিকভাবে বাজারজাত করতে না পারায়ও বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে হ্রদ সৃষ্টির পর থেকে হ্রদের কিছু কিছু জায়গায় সংস্কার বা ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ না নেয়ার ফলে হ্রদের অনেক এলাকায় লঞ্চ ও বোট চলাচল, জলেভাসা জমির চাষাবাদ, মৎস্য প্রজনন ও উৎপাদন এবং সর্বোপরি বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাহত হচ্ছে।

বরকলের সাংবাদিক পুলিন চাকমা জানান, সীমান্তবর্তী বরকল উপজেলায় হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়াতে যাত্রীবাহী লঞ্চ যেতে পারছে না। তবে ছোট ছোট ট্রলার দিয়ে বরকল উপজেলাবাসীকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ফলে উপজেলায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যর দাম দ্বিগুন বেড়ে গেছে।

জুরাছড়ির সাংবাদিক সুমন্ত চাকমা জানান, হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে জুরাছড়ি উপজেলাবাসী। যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করতে পারছে না। ছেটা ছোট ট্রলার দিয়ে যাতায়াত করছেন উপজেলার লোকজন। তবে এ সুযোগে ট্রলার চালকরা ট্রলারের ভাড়া দ্বিগুন বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া লঞ্চ য়েতে না পারায় পণ্যর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক মঈন উদ্দীন সেলিম জানান, হ্রদের পানি কমে যাওয়াতে উপজেলাগুলোতে অর্ধেক পর্ষন্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চ যেতে পারছে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

IMG_6664hillbd24.com

কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রহমান জানান, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর ৬ থেকে ৮ ফুট থাকায় চারটি ইউনিট থেকে ৮৪ মেগাওয়াট বিদ্যূৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে। তবে হ্রদের পানির স্তর যে অবস্থায় রয়েছে তাতে কিছু দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত না হলে ১টি ইউনিট চালু রাখতে হবে।

তিনি আরও জানান, হ্রদের পানির স্তর ৬৮ এমএসএল-এর নিচে নেমে গেলে বিদ্যূৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে না। তবে আশাকরি কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত হবে এবং তাতে সবকটি ইউনিটই চালু রাখা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য,১৯৬০ সালের কর্নফূলী নদীর উপর বাঁধ দিয়ে তৈরী করা হয় কাপ্তাই জল বিদ্যূৎ কেন্দ্র। এ বাধের ফলে ২৫৬ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বিশাল জলধারা হওয়ায় ৫৪ হাজার কৃষি জমি পানিতে ডুবে যায় এবং এক লাখের অধিক লোকজন উদ্বাস্তু হয়।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly