কাপ্তাইয়ে তরুণীর অশ্লীল ভিডিও তৈরীর অভিযোগে দু’যুবক আটকঃ মুক্তির দাবীতে ছাত্রলীগের সড়ক অবরোধ

কাপ্তাই প্রতিনিধি,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Kaptai Pic

প্রেমের ফাঁদে ফেলে কৌশলে অশ্লীল ভিডিও ফুটেজ তৈরী করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করার চেষ্টার অভিযোগে বুধবার রাতে দু’যুবককে আটক করে থানা পুলিশ।

এদিকে,আটককৃতদের মধ্যে একজন দলীয় কর্মী দাবী করে তার মুক্তির দাবীতে উপজেলা ছাত্রলীগ বৃহস্পতিবার  কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করেছে।

কাপ্তাই থানা জানায়, কয়েক বছর পূর্বে কর্ণফুলী পেপার মিলস এলাকায় বসবাসরত কলেজ পড়–য়া এক তরুণীর সাথে রেশম বাগান এলাকার বসবাসরত কাপ্তাই সুইডেন পলিটেকনিকের ছাত্র জনির সাথে পরিচয় হয়। পরে তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কৌশলে তার কিছু অশ্লীল ভিডিও ফুটেজ মোবাইলে ধারণ করে। এ কাজে তাকে সহায়তা করে কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রলীগ কর্মী মহিউদ্দিন নোমান। সম্প্রতি ওই ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ওই তরুণীকে দু’যুবক ব্ল্যাকমেইলিং করার অপচেষ্টা চালায়। তরুণী এ বিষযটি তার অভিভাকদের জানালে তারা এ বিষয়টি কাপ্তাই থানা পুলিশকে অবহিত করনে। এরই প্রেক্ষিতে বুধবার রাতে দু’যুবককে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে বৃহস্প্রতিবার সকালের দিকে দলীয় কর্মীকে আটক করার খবর ছড়িয়ে পড়লে তার মুক্তির দাবীতে কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কাপ্তাই-চট্টগ্রাম সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে সকাল ১০ টা থেকে প্রায় ২ ঘন্টা অবরোধ করা হলে দূর্গাপূজায় অংশগ্রহণকারী দূরদুরান্ত থেকে আগত এবং ঈদ সামনে রেখে বাড়ী ঘরে যাতায়তকারী লোকজনকে মারাত্মক ভোগন্তিতে পড়তে হয়। পরে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার করে অবরোধকারীরা।

সূত্র আরও জানায়, এ ঘটনায় জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করায় আ’লীগ নেতৃবৃন্দের সুপারিশে মহিউদ্দিন নোমানকে ভাইস চেয়ারম্যান নূর নাহার বেগমের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জনিকে থানায় আটক রাখা হয়েছে।

 দ্রুত ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়লে রাঙামাটি জেলার এডিএম সাইফুদ্দিন আহাম্মেদ ঘটনাস্থলে এসে কাপ্তাই উপজেলা প্রশাসন কক্ষে তাৎক্ষনিক উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নূর নাহার বেগম, কাপ্তাই থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হারুন অর রশীদ, কাপ্তাই উপজেলা আ’লীগ সভাপতি অংসুইচাইন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক থোয়াইচিং মারমা, উপজেলা আ’লীগ সাবেক সভাপতি মুফিজুল হক, সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান মোক্তার, কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ, চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান বিপ্লব মারমা সহ আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 বৈঠকে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 –হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly