কাপ্তাইয়ের চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারে উৎসব ও আনন্দঘন পরিবেশে কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পন্ন

বিশেষ প্রতিনিধি, হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Diponkor pic . 2

পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বিদের ঐতিহ্যবাহী  প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান  চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উৎসব আমেজে কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে  বৃহস্পতিবার বৌদ্ধ সংঘের পিন্ড দান, পঞ্চশীলা প্রার্থনা, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, বুদ্ধপূজা, মঙ্গলাচারণ পাঠ, কঠিন চীবর দান ও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়।পরে প্রদীপ পূজা, ফানুস উত্তোলন ও ধর্মীয় নাটক (পাংখো) পরিবেশিত হয়।

চিৎমরম বিহার মাঠে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পামোক্ষা মহাথেরোর সভাপতিত্বে কঠিন চীবর দানোৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপঙ্কর তালুকদার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য অংসুইপ্রু চৌধুরী। এতে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন, কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটির আহবায়ক অং সুই ছাইন চৌধুরী, সদস্য সচিব থোয়াই চিং মারমা। এতে ধর্মদেশনা প্রদান করেন চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পামোক্ষা মহাথের ও বাঙ্গাল হালিয়া বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের নন্দ বংশ থের। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন কাপ্তাই মং সুই প্রু মারমা। প্রধান অতিথি দীপঙ্কর তালুকদার ও বিশেষ অতিথি নিখিল কুমার চাকমা অনুষ্ঠানের সভাপতি চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পামোক্ষা মহাথেরোর হাতে চীবর তুলে দেন। অনুষ্ঠানে কাপ্তাই উপজেলা ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ৫ হাজারের অধিক পুন্যার্থী উপস্থিত ছিলেন।  অনুষ্ঠানে স্থানীয় অন্যান্য বৌদ্ধ মন্দিরের ভিক্ষু, দায়ক দায়িকা ও বিপুল সংখ্যক পূন্যার্থী উপস্থিত ছিলেন। গৌতম বুদ্ধের অমর বাণী ‘পৃথিবীর সকল প্রকার দানীয় সামগ্রী একত্র করিয়া দান করিলেও একখানা কঠিন চীবর দানের ষোল ভাগের একভাগ হয়না’ অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়। বুদ্ধের এই অমর বাণীকে সামনে রেখে দায়ক দায়িকা ও পুন্যার্থীরা ভিক্ষু সম্প্রদায়ের হাতে চীবর ও অন্যান্য দান সামগ্রী তুলে দেন।

এদিকে এ উপলক্ষে চিংম্রং বৌদ্ধ বিহার মাঠে মেলা বসে। বিপুল সংখ্যক দোকানী হরেক রকম দেশীয় পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছাড়াও অন্যান্য ধর্মালম্বীরাও এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, বৌদ্ধ ধর্ম জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ, হিংসা-প্রতিহিংসা সমর্থন করে না। বৌদ্ধ ধর্ম ভাল মানুষ হওয়ার তাগিদ দেয়। এ নীতি শুধু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বিদের জন্য নয়, ইহা পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য, জগতের সকল প্রাণীর সুখ, শান্তি নিশ্চিত করতে বৌদ্ধের নির্দেশিত শীল পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। তাই ইতোমধ্যে আমরা দূর্গাপূজা, ঈদুল আজহা এবং কঠিন চীবর দানোৎসব শান্তিপূর্ণ ও সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশে পালন করতে পেরেছি। এজন্য আমরা বৌদ্ধসহ সকল জনগনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly