কাউখালী বেতবুনিয়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে ২৮ বুদ্ধ জাদী উৎসর্গ ও উপসম্পদা অনুষ্ঠানের আয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

Bathbunia pic . 1

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলারবেতবুনিয়া বৌদ্ধ বিহারে মঙ্গলবার ২৮ বুদ্ধ জাদী উৎসর্গ, গণপ্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে রামগড়া মহামুনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সুরিয়িন্দ মহাথেরোর সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথি  ছিলেন কাপ্তাই চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ, রাজ নিকার মার্গ মহাসংঘনায়ক ভদন্ত পামোক্ষা মহাথেরো, আশীবার্দক  হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারাংগিরি হেডম্যানপাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পঞ্ঞাকবি মহাথেরো।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জনবল বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত চন্দ্রমনি মহাথেরো, কাউখালী পশ্চিম লুঙ্গীপাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সাসনা মহাথেরো, বান্দরবান উজানীপাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত চান্দাওয়ারা মহাথেরো, যুক্তরাজ্য বার্মিংহাম এর ভদন্ত ড. নাগাসেনা মহাথেরো। এ সময় বিশেষ পূনার্থী হিসেবে বক্তব্যে রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার।

অন্যান্যর মধ্যে  বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য অংসুই প্রু চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য বৃষকেতু চাকমা, কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস,এম চৌধুরী, কাউখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অংশা প্রু মারমা।

পরে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার ও কাপ্তাই চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ, রাজ নিকার মার্গ মহাসংঘনায়ক ভদন্ত পামোক্ষা মহাথেরো ২৮ বুদ্ধ জাদী বিহারের ফলক উন্মোচন করেন। সন্ধ্যায় হাজার প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্যে দিয়ে তিন ব্যাপাী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

বিশেষ পুণ্যার্থীর বক্তব্যে দীপংকর বলেন, বৌদ্ধ ধর্মের সম্প্রীতি ও অহিংসার নীতি মেনে চললে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরে আসবে, অশান্তি দূর হবে। এখানে সকল বর্ণ ধর্মের মানুষ নিজ নিজ অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারবে। ধর্মের নীতি লংঘনকারী, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হিংসার রাজনীতির পরাজয় হবে, মানুষের বিজয় হবে। গনতন্ত্রের ও শান্তিবাদী জনগনের বিজয় হবে। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পার্বত্য জনগনের প্রতি আন্তরিকতার কারনে আজকে এ অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। জনগুরুত্ব অনুসারে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নবায়নাধিন আছে। আজকে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারা দেশে শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে খুবই আন্তরিক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকার পার্বত্য অঞ্চলে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কথা চিন্তা করে মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গীর্জা সহ সকল সম্প্রদায়ের উপসনালয়কে নতুন করে রূপ দিয়েছে। সকল সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নিরাপদে নির্বিঘেœ তাদের সৃষ্টি কর্তার কাছে প্রার্থনা করতে পারে তার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। আলোচনা সভা শেষে পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধ মুর্তিদান, সংঘদান সহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ২৮ বুদ্ধ জাদী উৎসর্গ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly