ঈদ ও দূর্গা পূজার লম্বা ছুটি থাকলেও রাঙামাটিতে পর্যটকদের তেমন একটা সাড়া নেই

স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম

ঈদ ও দূর্গা পূজার দীর্ঘ লম্বা ছূটি অন্যদিকে পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও প্রকৃতির রাণী পর্যটন রাঙামাটিতে পর্যটকদের সাড়া মিলছে না। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পর্যটকরা রাঙামাটিতে বেড়াতে আসতে বিমুখ হচ্ছেন। ফলে পর্যটন ব্যবসায় চলছে মন্দাভাব।

hillbd pic

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদ ও দূর্গা পূজার দীর্ঘ এক সপ্তাহ ছুটি থাকায় এ বছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকদের রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলোতে ঢল নামার সম্ভাবনা ছিল। অপরদিকে বর্তমানে চলছে পর্যটন মৌসুম। কিন্তু পর্যটন ভরা মৌসুম এবং ঈদ ও দূর্গার পূজার লম্বা ছুটির থাকার পরও রাঙামাটি শহরের হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোতে রুম বকুড শতকরা অর্ধেকেরও কম রয়েছে। গত বছর এই মৌসুমে রাঙামাটির হোটেল-মোটেলগুলোতে রুম বুকড অত্যন্ত ভাল ছিল। সে সময় রাঙামাটিতে পর্যটকদের ঢলও নেমে ছিল। কিন্তু এবছর দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে পর্যটকদের আগমণ একবারে কমে গেছে। পর্যটকরা বেড়াতে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। যদি এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকে তাহলে পর্যটন ব্যবসার ধ্বস নামার সম্ভাবনা রয়েছে।  অপরদিকে রাঙামাটি পর্যটন সৌন্দর্য্যকে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে আকৃষ্ট করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ১৫ দিন ব্যাপী পর্যটন মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও পর্যটকদের সাড়া মিলেনি।

পর্যটন ব্যবসার সংশ্লিষ্টরা মৌসুম চলাকালে সকল আবাসিক হোটেল-মোটেল, টুরিষ্ট বোটের জন্য ৩০থেকে ৪০ শতাংশ ছাড় দেয়ারও ঘোষনা করছিল।  রাঙামাটি পর্যটনের আকর্যনীয় স্পটের মধ্যে রয়েছে, পর্যটনের ঝুলন্ত সেতু, শুভলং এর মনোমুগ্ধকর ঝর্ণা, রাজ বন বিহার,জেলা প্রশাসনের বাংলো, বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের সমাধি সৌধ, বালুখালী কৃষি খামার, টুক টুক ইকোভিলেজ,সাংপাং রেস্টুরেন্ট এবং আদিবাসী শান্ত সবুজ গ্রাম ও তাদের জীবনযাত্রা। এছাড়াও রয়েছে কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী নদীর তীরে গড়ে উঠা আকর্যনীয় পর্যটন স্পট, কাপ্তাই জল বিদ্যূৎ উৎপাদন কেন্দ্র, কর্ণফূলী পেপার মিলস্ ও কাপ্তাই জাতীয় উদ্যোন।

রাঙামাটি সরকারী পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক আখলাকুর রহমান জানান, পর্যটন মৌসুম এবং রমজান ও দূর্গাপূজার ছুটি থাকায় ইতোমধ্যে তার মোটেলের ১৭ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্ষন্ত অধিকাংশ রুম বুকড হয়ে গেছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর পর্যটকের কিছুটা সংখ্যা কম। আবার দেশের বড় কোন ঘটনা ঘটলে বকুড করা রুমও বাতিল হওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আশাকরি ঈদ ও দূর্গার পূজার ছূটিতে রাঙামাটি পর্যটকের সমাগম ঘটবে।  সুপিয়া হোটেলের ম্যানেজার বাবুল জানান, তার হোটেলে ১৭ অক্টোর থেকে মাত্র তিন দিনের জন্য রুম বুকড রয়েছে। তাও ৫০ শতাংশের কম রুম বকুড করা হয়েছে। গ্রীন ক্যাসেলের ম্যানেজার চন্দন দাশ বর্মন জানান, একদিকে পর্যটন ভরা মৌসুম অন্যদিকে ঈদ ও দূর্গার পূজার লম্বা ছুটি থাকার পরও তার হোটেলে রুম বকুড অর্ধেরও বেশী কম রয়েছে। দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারনে লোকজন রাঙামাটিতে বেড়াতে আসতে ভয় পাচ্ছেন। তাই বর্তমানে পর্যটন ব্যবসা খুবই খারাপ যাচ্ছে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly