ঈদ ও দূর্গার পূজার দীর্ঘ ছুটিতে রাঙামাটির পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড় নেই

স্টাফ রিপোর্টার, হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম

এবারে ঈদ ও দূর্গা পূজার দীর্ঘ ছূটি থাকলেও রাঙামাটিতে পর্যটকের সংখ্যা একেবারে কমে গেছে। পর্যটকরা রাঙামাটিতে বেড়াতে না আসার মূল কারণ হচ্ছে দেশের রাজনৈতিক সহিংসতার ভীতি। ফলে রাঙামাটির পর্যটন ব্যবসায় মন্দাভাব চলছে।  রাঙামাটির সরকারী পর্যটন হোলিডে কমপে¬ক্সের ঝুলন্ত সেতু, পর্যটন পার্কসহ কয়েকটি পর্যটন স্পটে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ঈদ ও দূর্গা পূজার দীর্ঘ এক সপ্তাহ ছূটি থাকলেও পর্যটন স্পটগুলোতে তেমন একটা ভিড় নেই। রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে ঈদের ছূটিতে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ঢল নামতো। কিন্তু এবছর পর্যটকরা রাঙামাটিতে বেড়াতে আসতে তেমন একটা সাড়া মিলছে না দেশের রাজনৈতিক সহিংসতার ভীতির কারণে। তারপরও অনেক ভ্রমন পিপাসু পর্যটক প্রিয়জনদের সাথে নিয়ে আজানা শংকার মধ্য দিয়ে রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে ভরা ঝুলন্ত সেতু, রাজ বন বিহারসহ কয়েকটি পর্যটন স্পটগুলোতে আনন্দ উপভোগ করছেন। তবে এসব স্পটগুলোতে বেশীর ভাগই চট্টগ্রামের হাটহাজারি, রাউজান,ফুটিকছড়ি, হাটহাজারি এলাকাসহ রাঙামাটির স্থাণীয় লোকজনকে বেশী দেখা গেছে।

Porzoton Pic-2

মাঝে মধ্যে ঢাকাসহ অন্যান্য দুরদুরান্ত এলাকা থেকে হাতেগুনা কয়েকজন পর্যটক  ঘুরতে দেখা গেছে। তবে যারা এসেছেন তারাও শংকায় রাঙামাটি ঘুরে বেড়াচ্ছেন ঘুরছেন  এবং আগামী ২৫ অক্টোবরের আগে নিজেদের বাড়ীতে ফিরে যাওয়ার কথা জানালেন।  স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলতে থাকায় এবার ঈদ ও দূর্গা পূজার ছূটি একসাথে হলেও রাঙামাটি শহরের হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসগুলো পর্যটকদের ভিড় নেই। এভাবে চলতে থাকলে পর্যটন ব্যবসায় গুটিয়ে ফেলতে হবে বলে তারা মনে করেন। পর্যটন সেতুর ওপারে পাহাড়ীদের তৈরী পোশাক, প¬াস্টিকের তৈরী ব্যাগ ও বিভিন্ন উপকরণ বিক্রেতা আলো চাকমা জানান, এবার ঈদের পর্যটক না আসায় তাদের বেচা-বিক্রিও কমে গেছে। যেখানে ঈদের পর দিন থেকে প্রতিদিন দুই-তিন হাজার টাকা বিক্রি হতো সে জায়গায় মাত্র পাঁচশত টাকা থেকেও কম বিক্রি করতে পারছি। ফলে আমরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।    পর্যটন সেতুর বোট ইজারাদার  রমজান আলী জানান, দীর্ঘ এক সপ্তাহ ছুটি থাকায় এবার প্রচুর পর্যটক আসবে ভেবে ছিলাম। কিন্তু সেরকম পর্যটক নেই। তার মতে, আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তার আশংকায় পর্যটকরা বেড়াতে আসতে সাহস পাচ্ছেন না।

বেসরকারী হোটেল গ্রীন ক্যাসেলের ব্যবস্থাপক চন্দন দাশ বর্মন বলেন, আশা করেছি এবার পর্যটন মৌসুম ও  দীর্ঘ সরকারী ছুটিতে হোটেল ব্যবসা ভাল হবে। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি ও ২৫ অক্টোবরের দুই রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি দেয়ার কারণে পর্যটকরা বেড়াতে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে এবারে হোটেলের অর্ধেকের কম রুম ভাড়া হয়েছে। পর্যটন ব্যবসা খুবই মন্দাভাব চলছে।   রাঙামাটি সরকারী পর্যটন হলিডে কমপে¬ক্সের ম্যানেজার আখলাকুর রহমান জানান, তার মোটেলে ১৮ অক্টোবর থেকে তিন দিনের জন্য বুকড রয়েছে। তবে দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে হয়তো এই বুকিং বাতিল হতে পারে। তিনি আরও জানান, পর্যটন সেতুসহ অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলো ঢাকাসহ দুরদুরান্ত এলাকা থেকে পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও স্থানীয় এবং চট্টগ্রাম থেকে পর্যটক সংখ্যা যথেষ্ট রয়েছে।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/এনএ.

Print Friendly