আলীকদমে দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষকের অভাবে সাড়ে চার শতাধিক ছাত্রছাত্রী বিপাকে

 আলীকদম প্রতিনিধি,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

বান্দরবানের আলীকদম ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসায় শিক্ষকের অভাবে সাড়ে চার শতাধিক ছাত্রছাত্রী বিপাকে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সুপার ও সহকারি শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবনে উদ্বেগ নেমে এসেছে।

জানা গেছে, মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মুহাম্মদ আলী ২০১২ সালের ৩১ জুন অবসর নেন। এর পর ভারপ্রাপ্ত সুপার হন সহকারি সুপার মুহাম্মদ হোসাইন। ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব নেওয়ার আড়াই বছরে মাদ্রাসায় একাডেমিক শৃংখলা ভেঙে গেছে। সে সুযোগে কতিপয় শিক্ষকের ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানে আগমন-প্রস্থানের কোনো নিয়ম-নীতির বালাই নেই। মাদরাসার কার্যক্রম চলাকালে জুনিয়র শিক্ষকের হাতে সিনিয়র শিক্ষক নাজেহাল হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার দায়িত্বে নেওয়ার আড়াই বছর পার হলেও মাদ্রাসার বার্ষিক কোনো হিসাব-নিকাশ না হয়নি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

অভিযোগে জানা গেছে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সুপার, গণিত ও কৃষি বিষয়ে শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েও নানা অজুহাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে রেখেছে। এসব পদে লোক না থাকায় ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানে শিক্ষকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিক্ষকের অভাবে গেল শিক্ষাবর্ষে ছাত্রছাত্রীদের সুষ্ঠু পাঠদানে সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেছেন মাদ্রাসার সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরে জানুয়ারী ও জুন মাসে আরো দুইজন সহকারি শিক্ষক অবসরে যাবেন বলে মাদ্রাসার সুত্র জানিয়েছে। গেল বার্ষিক পরীক্ষায় নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা গণিত বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের দাবীতে গণিতের পরীক্ষা বর্জন করেছিল। ভারপ্রাপ্ত সুপার ছাত্রছাত্রীদের দাবী মেনে নেওয়ার আশ্বাসের পরে তারা পরীক্ষা দেয়। ভারপ্রাপ্ত সুপারও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মাদরাসার এহেনবস্থায় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও এডহক কিংবা পূণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। এখনো মেয়াদহীন কমিটি শিক্ষকদের বেতন-ভাতাসহ প্রশাসনিক কাজ চালাচ্ছে।

মাদরাসা অভিভাবক সদস্য মাওলানা আব্দুস শুক্কুর, ওসমান গনি, নুরুল ইসলাম, মাশুক এলাহীসহ একাধিক অভিভাবক জানান, আগের কমিটি ও ভারপ্রাপ্ত সুপারের অবহেলায় দীর্ঘদিনেও সুপার ও শিক্ষক পদে লোক নিয়োগ এবং নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠন হয়নি। সংকট নিরসনে অভিভাকরা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 ারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন বলেন, সুপার পদে কয়েকবার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও অভিজ্ঞ লোক না পাওয়ায় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ‘এডহক কমিটি’ গঠনে চেষ্টা চলছে।

বান্দরবান জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পূরবী চৌধুরী জানান, মেয়াদ সমাপ্তির পর পূর্বের কমিটির কোনো বৈধতা নেই। এডহক কমিটি গঠনে কাগজপত্র তৈরীর জন্য সুপারকে বলা হয়েছে।

 –হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly