রাঙামাটিতে সপ্তাহ ব্যাপী বৃমেলা ও বৃরোপন অভিষান উদ্বোধন


আওয়ামীলীগ সরকারই পার্বত্য চুক্তির শতভাগ বাস্তবায়ন করবে — পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

 স্টাফ রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়ন্টিফোর ডটকম

b1

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈসিং এমপি বলেছেন, কোন সরকার যদি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি শতভাগ ভাগ বাস্তবায়ন করে তাহলে একমাত্র আওয়ামীলীগ সরকারই করবে। তাই পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে অস্ত্রের ঝনঝনানী বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে নয় সম্মিলিতভাবে সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য সবাইয়ের সহযাগিতা ও সহমর্মিতা দ্বারা পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসত হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের এক দশমাংশ জায়গা রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। এ অঞ্চলের পাহাড় ও সমতল জায়গায় বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে সবুজ বনায়ন করা গেলে পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের মধ্যে সম্পদে পরিনত হবে। তিনি পার্বত্যাঞ্চলে সরকারী যেসব নিঃকন্ঠক জমিজমা রয়েছে সে সব জায়গা-জমিতে সামাজিক বনায়নের জন্য নির্ধারণ এবং বনায়নে যেসব সমস্যা রয়েছে তা নিরসন করে  নবুজ বনায়নে এগিয়ে নেয়ার তাগিদ দেন।

Rangamati Pic-21-06-14-1 (1)

 শনিবার রাঙামাটিতে সপ্তাহ ব্যাপী বৃমেলা ও বৃরোপন অভিষান ২০১৪-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এসব কথা বলেন।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম দণি বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি আসনের সাংসদ ঊষাতন তালুকদার,সংরতি মহিলা আসনের সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, জেলা পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপ-পরিচালক নরেশ চন্দ্র বারই ও বন সংরক্ষক মোঃ আবু হানিফ পাটোয়ারী। আলোচনাসভা শেষে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশেসিং এমপি রাঙ্গামাটি মহিলা কলেজের অধ্যাক্ষের হাতে গাছের চারা বিতরণ করেন। এর আগে কবুতর, বেলুন ও ফিতা কেটে রাঙামাটি পৌর সভা প্রাঙ্গনে সপ্তাহ ব্যাপী মেলার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর। এ উপলে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বর থেকে পৌর প্রাঙ্গন পর্ষন্ত একটি বর্নাঢ্য র্যালী বের করা হয়। মেলায় বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিক্রয় ও প্রদর্শিত হচ্ছে।

Rangamati Pic-21-06-14-03

আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, গাছ আমাদের পরম বন্ধু, শান্তি প্রতীক জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই গাছ আমাদের সকলের বন্ধু হিসেবে পাশে থাকে।

তিনি বলেন, বৃক্ষ কারো সাথে বেইমানী করে না। গাছ কখনো বলে না আমি আওয়ামীলীগ আমি বিএনপি বা আমি পাহাড়ী আমি বাঙ্গালী। বৃক্ষ রোপন করতে কোন দিবসের প্রয়োজন হয় না। আমাদের প্রাকৃতিক দূর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রচুর গাছ লাগানো দরকার।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে সেগুন গামারীর পাশাপাশি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা সংরক্ষণ ও রোপন করতে হবে। বাড়ীর আশেপাশে সঞ্চয়ী মনোভাব নিয়ে ফলজ ও বনজ চারা রোপন করলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হওয়া যায়।

প্রতিমন্ত্রী ফরমালিনের এই যুগে আমরা যদি বাড়ীর আঙ্গিনায় অনন্ত একটি করে ফলের চারা রোপন করি তাহলে নিঃসন্দেহে ফরমালিনমুক্ত ফল আমরা খেতে পারবো বলে উল্লেখ করেন।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly