অতিথি পাখিদের কলতানে মুখরিত রাঙামাটির ডিসি বাংলো

বিশেষে রিপোর্টার,হিলবিডিটোয়েন্টিফোর ডটকম

q
অতিথি পাখিদের কলতানে মুখরিত রাঙামাটির জেলা প্রশাসন(ডিসি) বাংলো এলাকা। ডিসি বাংলোতে থাকা গাছের ডালে প্রতিদিন শত শত অতিথি পাখী ভিড় জমাচ্ছে। এতে করে রাঙামাটির প্রচীতনতম এ ডিসি বাংলোর সৌন্দর্য্যর আকর্ষন আরও কয়েকগুনে বেড়ে গেছে।

জানা যায়, রাঙামাটি শহরের পূর্বের জিরো পয়েন্টে এবং কাপ্তাই হ্রদের ধারে অবস্থিত শহরের সবচেয়ে প্রাচীনতম এই ডিসি বাংলোটি। ১৮৬৮ সালে রাঙামাটি জেলা সদর স্থানান্তরের পার নির্মিত হয় এ ডিসি বাংলোটি। শুধুমাত্র সংযোগ সড়ক বর্তমানে এইচটি ইমাম সড়ক ছাড়া বাংলোর চারদিকে ঘেরা রয়েছে কাপ্তাই হ্রদের। এক টুকরো পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এ ডিসি বাংলোটি চারিদিকে কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ নীল জল রাশি দ্বারা বৈষ্টিত বলেই পর্যটনের অন্যতম আকর্ষন সৌন্দর্য্যর স্থানও বটে। আর এ ঐতিহ্যবাহী ডিসি বাংলোর আশাপাশ এলাকায় রয়েছে রাঙামাটির কয়েক শত বছরের চাপালিশ, মেহগুনিসহ নানা জাতের গাছগাছালি।

প্রতি বছর শীত মৌসুম আসলে সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নানান জাতের শত শত অতিথি পাখী কাপ্তাই হ্রদে খাদ্যর সন্ধানে চলে আসে। খাদ্যর সন্ধানে আসা এসব পাখিরা অতি নিরাপদ মনে করে আশ্রয় নিয়ে থাকে ডিসি বাংলো এলাকার গাছগাছালিতে। শুধু তাই নয় এ ডিসি বাংলো এলাকার গাছগাছালিতে অতিথি পাখী ছাড়াও দেশীয় প্রজাতীয় পাখি টিয়া,শালিক, বাদুড়, কবুতরসহ নানান জাতের পাখিদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিণত হয়েছে। দৃশ্যত ডিসি বাংলো এলাকায় পাখীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। এক কথায় পাখিদের কলতানে সারাদিন মুখরিত থাকে এ ডিসি বাংলো এলাকাটি।

qq

সূত্র জানায়, প্রতি বছর অক্টোবর থেকে সাইবেরিয়াসহ শীত প্রধান দেশেগুলো থেকে শত শত পাখি চলে আসে এইসব অতিথি পাখি। শীতের শেষে ফের্রুয়ারী-মার্চের দিকে নিজেদের জায়গায় ফিরে যায় এসব অতিথি পাখি। আর এ অতিথি পাখীরা কাপ্তাই হ্রদে খাদ্য সন্ধানের পর ডিসি বাংলোর এলাকার গাছে ডালে নিরাপদে আশ্রয় নিয়ে থাকে।

ডিসি বাংলোর কর্মচারী মোঃ নূরুল ইসলাম জানান, অতিথি পাখীরা অক্টোবর মাসে চলে আসে । প্রায় ৫ থেকে মাস এখানে থাকার পর আবার তাদের নিজেদের জায়গায় ফিরে যায়। অতিথি পাখিরা কাপ্তাই হ্রদে খাদ্যর সন্ধানের পর বাংলোর গাছগালিতে আশ্রয়ে আসে এবং সারাদিন পাখীদের কলতানে মুখরিত থাকে বাংলো এলাকাটি।

জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, সৃষ্টি কর্তা বেশী খুশী হলে নাকি কন্যা সন্তান দান করে থাকেন। আর তারও বেশী খুশী হলে বাসায় অতিথি আসে। এরাও বিভিন্ন দেশ থেকে অতিথি হয়ে তার বাংলোর আশপাশে গাছগাছিলে আশ্রয় নিয়েছে। তাই অতিথি পাখীদের নিয়ে তিনি কোন প্রকার বিরক্তবোধ করেন না। বরং অতিথি পাখীদের কলতানে খুশী হই।

তিনি আরও জানান, সাধারনত অক্টোবর মাসের দিকে এসব অতিথি পাখীরা আসে এবং তাদের নিজেদের স্থানে ফেরত যায় মার্চ মাসের দিকে। তার বাংলো এলাকাটি চারপাশের গাছগাছালিসহ প্রাকৃতি সৌন্দর্য্যর ভরা। বাংলো এলাকায় কেউই পাখীদের বিরক্ত করে না বলে তারা অত্যন্ত নিরপাদ মনে করে আশ্রয় নিয়ে থাকে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

Print Friendly